বগি ছুটে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ইঞ্জিন ছাড়াই কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকটি বগি গড়িয়ে প্ল্যাটফর্মের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনায় সহকারী স্টেশন মাস্টারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, বক্তব্য জানতে চাইলে সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা তাঁদের বলেন, ‘আপনাদের কোন তথ্য দিতে আমি বাধ্য নই।’ একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের কেবিন থেকে চলে যেতে বলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা। তাঁদের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের বগি ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছনের দিকে গড়িয়ে প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করে আউটার সিগন্যাল এলাকার দিকে চলে যায়। এ সময় ট্রেনের গার্ড উমর আলীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বগিগুলো থামানো সম্ভব হয়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনার পর সময় টিভির সাংবাদিকসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার কক্ষে গিয়ে তাঁর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি তথ্য দিতে বাধ্য নন বলে মন্তব্য করেন এবং তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ জানান, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে কুলিয়ারচর স্টেশন ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনটির ২০ মিনিটের মধ্যে ভৈরবে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সময় লাগে প্রায় ৫০ মিনিট। এ বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান না করেই সহকারী কেবিন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান।
স্টেশন মাস্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন করার পরপরই বগিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছনের দিকে গড়িয়ে যেতে শুরু করে এবং প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করে আউটার সিগন্যাল এলাকায় চলে যায়। এ সময় গার্ড দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের একাধিক কর্মচারী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াকে ভৈরব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও দূরদর্শিতার ঘাটতি থাকলে তা রেল চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে সহকারী স্টেশন মাস্টারের আচরণের বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কারও জন্যই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।







Disqus comments are not configured yet.