ভৈরবে আলোক ফাঁদে শনাক্ত হচ্ছে ক্ষতিকর পোকা, লাভবান হচ্ছেন কৃষক
ফসলের জমিতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকামাকড় শনাক্ত করতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির আলোক ফাঁদ। এর মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমানো ও ফসলের ফলন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
রোপা আমন ধানে ঘাসফড়িংসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড় শনাক্ত করতে ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে আলোক ফাঁদ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সম্প্রতি শহরের দড়িচণ্ডিবেড় এলাকার রোপা আমনের মাঠে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ভৈরব উপজেলায় ২ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলাকে ২২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্ত করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আলোক ফাঁদ তৈরিতে খরচ তুলনামূলক কম। কয়েকটি খুঁটি, একটি বাল্ব, পানি রাখার পাত্র এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক তার দিয়ে এটি তৈরি করা যায়। রাতে আলোর আকর্ষণে পোকামাকড় ফাঁদের কাছে এলে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এর ফলে জমিতে কোন ধরনের পোকামাকড়ের আক্রমণ হচ্ছে, তা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
স্থানীয় কৃষাণী জুলেখা বলেন, “ক্ষতিকর পোকা কোনটি, তা আমরা অনেক সময় চিনতে পারি না। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এতে জমির উপকার হয় এবং ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের পরামর্শ দেন।”
কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, “আলোক ফাঁদের মাধ্যমে জমিতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় ভালো ফলন পেতে সহায়তা হচ্ছে।”
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, আলোক ফাঁদ একটি আধুনিক প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে জমিতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। বিশেষ করে মাজরা পোকা, ঘাসফড়িং ও বাদামি গাছফড়িংয়ের উপস্থিতি নির্ণয়ে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, আলোক ফাঁদের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড় শনাক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ কমানো সম্ভব হয় এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, কৃষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোক ফাঁদ স্থাপন ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ পর্যবেক্ষণ, ফসলের সুরক্ষা এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়তা করবে।










Disqus comments are not configured yet.