তাড়াইলে শীতকালীন সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণিরা
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শীতকালীন সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণিরা। চলতি বছর অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শীতকালীন সবজি চাষে মনোযোগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁদের উৎপাদিত সবজি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এতে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি কৃষকেরাও লাভের আশা করছেন।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিবছর তাড়াইলে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে সরবরাহ করা হয়। তবে চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে সবজি চাষে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এতে অনেক জমিতে বীজ ও চারা নষ্ট হয়। এর প্রভাব পড়ে সবজির উৎপাদন ও বাজার সরবরাহে। ফলে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বেড়ে যায়।
সরেজমিনে বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণিরা। কেউ সবজির গোড়ার মাটি আলগা করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ গাছে পানি দিচ্ছেন। নরসুন্দা নদীবিধৌত এ উপজেলার উর্বর জমিতে প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ শীতকালীন শাকসবজি উৎপাদিত হয়।
এ অঞ্চলে চাষ করা শীতকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, টমেটো, শিম, লাউ, পালংশাক, লালশাক ও ধনেপাতাসহ নানা ধরনের সবজি। এসব সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়।
তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “অন্য ফসলের তুলনায় আমাদের এলাকায় প্রতিবছরই শীতকালীন সবজি চাষের জমির পরিমাণ বাড়ছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে শীতকালীন সবজি চাষ করে বেশি লাভ করা যায়। এ কারণে আমি প্রতিবছরই সবজি চাষ করি। উৎপাদিত সবজির বাজারে চাহিদা থাকে, পাশাপাশি লাভেরও সুযোগ রয়েছে।”
একই গ্রামের আরেক কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, “আমাদের উৎপাদিত সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলে দাম কমে আসবে। একই সঙ্গে বাজারে সবজির সংকটও কেটে যাবে। আশা করছি, এ বছর সবজি চাষ করে লাভবান হতে পারব।”
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ রয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাঁদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছর সবজির ফলন ভালো হবে এবং কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাবেন।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, তাড়াইল উপজেলা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য পরিচিত। প্রতিবছর এ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদিত হয়। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে সবজির সংকট কমে আসে এবং দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকে।









Disqus comments are not configured yet.