বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

কম্বোডিয়ায় ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কম্বোডিয়ায় ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশিসহ ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

কম্বোডিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির অভিবাসন বিভাগের (জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন) সরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৪টি আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বহিষ্কারের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে, যা ৪০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার চীনা, ৮ হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, ৪ হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় ২ হাজার মিয়ানমারের এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে এসব কর্মকাণ্ডে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে পৃথক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন মনে করে, বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। যথাযথ যাচাই ছাড়াই তাঁদের অভিযুক্ত বা প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত না করে ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠনটি আরও মনে করে, কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে আটকে আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরি করা জরুরি। কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা যেন পুনরায় মানবপাচারের শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আর্সেনালকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল ফ্লিটউড

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
আর্সেনালকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল ফ্লিটউড

ইংলিশ লিগ কাপে বড় অঘটনের শিকার হয়েছে আর্সেনাল। ইংল্যান্ডের চতুর্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড টাউনের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় ফ্লিটউড।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের ফ্লিটউডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালের হয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারায়েস। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। এরপর কোনর হগি জয়সূচক পেনাল্টিতে গোল করলে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্বাগতিক সমর্থকেরা।

ম্যাচের ২১ মিনিটে অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। বিরতির পর ৫০ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেস গোল করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান। এরপর নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে আর কোনো দল গোল করতে পারেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে ৮৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় হ্যারিসন নিলকে লাথি মারার ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার ম্যাক্স ডাওম্যান। ফলে ম্যাচের শেষ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্সেনালকে।

রবিবার লিভারপুলের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিয়মিত একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। এভারটনের বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে নয়জনকে বদলে মাঠে নামান তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হলো লিগ কাপ থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে।

চতুর্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড লিগ টুতে ১৮তম স্থানে থাকলেও শক্তিশালী আর্সেনালের বিপক্ষে শুরু থেকেই লড়াই করেছে। গোলরক্ষক জে লিঞ্চের দৃঢ়তা এবং টাইব্রেকারে খেলোয়াড়দের সাফল্যে স্মরণীয় জয় পায় দলটি। জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফ্লিটউডের কোচ ম্যাট ললর। মাঠে নেমে উল্লাসে যোগ দেন সমর্থকেরাও।

এই হার আর্সেনালের জন্য বড় ধাক্কা। এর আগে শনিবার এভারটনকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সমান পয়েন্টে পৌঁছেছিল দলটি। কিন্তু লিগ কাপে অপেক্ষাকৃত নিচের বিভাগের দলের কাছে হেরে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামতে হবে আর্তেতার শিষ্যদের।

খাদ্যে পুষ্টি নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা চান প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
খাদ্যে পুষ্টি নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা চান প্রতিমন্ত্রী

খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ করে চাল ও আটা-ময়দায় পুষ্টি উপাদান যুক্ত করা বা ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করতে কার্যকর বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ফর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (এফএবি) আয়োজিত ‘কনভেনিং পার্টনারশিপ অন ফুড ফর্টিফিকেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

খাদ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের কাছে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পৌঁছে দিতে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা জরুরি। লবণ ও ভোজ্যতেলে আয়োডিন ও ভিটামিন যুক্ত করার উদ্যোগ সফল হলেও চাল ও আটার ক্ষেত্রে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

দেশে বছরে প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয় এবং চাহিদা রয়েছে ৩ কোটি ২৫ থেকে ৩ কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চালের উৎপাদন ও মজুত পর্যাপ্ত থাকায় সঠিক পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী রূপরেখার মাধ্যমে চালের ফর্টিফিকেশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশনসহ সরকারি বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে সরবরাহ করা চাল ও আটায় পর্যায়ক্রমে ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কাজের পরিধি নির্ধারণ এবং পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার আহ্বানও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সুস্থ প্রজন্ম গড়তে হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
সুস্থ প্রজন্ম গড়তে হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি: প্রতিমন্ত্রী

নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এসব অভ্যাস নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত।

ঢাকা শহরের নাগরিক সেবা ও পানির সরবরাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি এবং ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত। সুস্থ থাকতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায়ও সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালায় আহমাদযাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ওআইসি) ড. রাজেস নারওয়াল এবং ইউনিসেফের চিফ অব ওয়াশ পিটার মায়েস।

বক্তারা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ পাঠ করানো হয়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয়।