বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা তথ্য উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা তথ্য উপদেষ্টার

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন।

পিরোজপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সামনে যে তথ্য এসেছে, তা খুবই দুঃখজনক। একটি রাজনৈতিক দল এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হয়ে কাজগুলো করেছে। এর পরিণতি তারা ভোগ করবে।’

মৃত্যুর পর কোনো ব্যক্তির মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কেউ পছন্দ করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এমন কাজ করেন, শেষ পর্যন্ত তারা সমাজে নিন্দিত হবেন।

অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কিছু ব্যক্তির বিচার হওয়ার পর তাঁদের মরদেহের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয়েছিল।

এদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তবে তাঁকে কোনো ধরনের গণপিটুনি বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার, তা-ই হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে চায় সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে চায় সরকার

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী বছর থেকে স্কুলে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম চালু, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করা এবং গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী হবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারের অগ্রাধিকার ও উদ্যোগের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি, জার্মান, ফরাসিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পাশাপাশি শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা গেলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।

চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি এবং ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করবেন। মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে রোগের প্রকোপ কমবে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের বাংলাদেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সম্পৃক্ত করে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

সভায় দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে প্রবাসী এবং দেশে বসবাসকারী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমরা দেশে থাকি কিংবা বিদেশে থাকি, যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’

দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রবাসে অবস্থান করলেও প্রত্যেক বাংলাদেশির দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে সভায় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘গুপ্ত ও স্বৈরাচারীরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে একই ভাষায় কথা বলছে’- জালাল উদ্দিন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
‘গুপ্ত ও স্বৈরাচারীরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে একই ভাষায় কথা বলছে’- জালাল উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেছেন, ‘গুপ্ত ও স্বৈরাচারীরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে একই ভাষায় কথা বলছে।’ তিনি বলেন, দেশকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে কেউ রক্তচক্ষু দেখিয়ে ভয় দেখাতে চাইলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে কটিয়াদী উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। এতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২১৪টি আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আমরা কাউকে রক্তচক্ষু দেখাতে ভয় পাই না। দেশকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। তবে কেউ যদি আমাদের রক্তচক্ষু দেখায়, আমরাও তাদের ছাড় দেব না।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান অসামান্য ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ দেশ পরিচালনা করছেন। তাঁর ত্যাগ ও নেতৃত্বের বিষয়টি সবাইকে সব সময় মনে রাখতে হবে।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জালাল উদ্দিন বলেন, তাঁদের স্লোগান হবে- ‘তারেক রহমান এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সঙ্গে। তারেক রহমান, ভয় নাই- রাজপথ ছাড়ি নাই।’

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতুর সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. জহরলাল সাহা এবং সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, মিজানুর রহমান স্বপন ও শফিকুর রহমান বাদল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শেখ জসীম উদ্দিন মেনু, মো. শহিদুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিঠু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তফছিরুল হাসিবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সমাবেশ শেষে আনন্দ র‍্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

ভৈরবে মাদকবিরোধী অভিযান, নারীসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে মাদকবিরোধী অভিযান, নারীসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের পৃথক অভিযানে এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৯৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের দুর্জয় মোড় ও পলতাকান্দা এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ভৈরব সার্কেলের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর এ তথ্য জানান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ভৈরবের কমলপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে লিটন মিয়া (৩৪), পলতাকান্দা এলাকার শেফালী বেগম (৩৮) এবং কমলপুর এলাকার মৃত সোবহান মিয়ার ছেলে আবুল বাশার (৫০)।

পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের দুর্জয় মোড়সংলগ্ন একটি খাবারের হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেলটির কর্মচারী লিটন মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাঁর হেফাজত থেকে ১৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। হোটেল ব্যবসার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর দুপুর ২টার দিকে পলতাকান্দা এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে শেফালী বেগমের বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে ৭৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং তাঁকে আটক করা হয়। একই সময়ে ১০ গ্রাম গাঁজাসহ আবুল বাশার নামে আরেকজনকে আটক করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভৈরব সার্কেল, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভৈরবের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ আনসার সদস্যরাও অংশ নেন। অভিযানে মোট ৯৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

অভিযান-সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর ও উপ-পরিদর্শক মো. সাইকুল ইসলাম তালুকদার আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আজিমুল হকের কাছে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লিটন মিয়াকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, শেফালী বেগমকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং আবুল বাশারকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।