তাড়াইলে লেপ-তোষকের দোকানে ভিড়, বেড়েছে তুলার দাম
দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আর ভোরে ঘাস-লতাপাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন মানুষ। কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলখ্যাত তাড়াইল উপজেলায় এরই মধ্যে শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শীতের আগমন ঘিরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন লেপ-তোষক তৈরির কারিগর ও দোকানিরা।
কার্তিক মাসের শুরু থেকেই শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকলেও পৌষ ও মাঘ—এই দুই মাস শীতকাল হিসেবে পরিচিত। শীতের প্রস্তুতি হিসেবে লেপ-তোষক তৈরি করতে দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি ও সরবরাহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো বেচাকেনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের আশা, শীতের তীব্রতা বাড়লে বিক্রিও বাড়বে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাড়াইল সদর বাজারের বড় মসজিদ রোডের তুলার দোকান ও লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। অনেকে শীতের জন্য লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করতে এসেছেন। তাঁদের চাহিদা পূরণে ব্যস্ত কারিগররা।
লেপ-তোষক তৈরির কারিগর উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামের মুহাম্মদ আলী ও রোকন মিয়া বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় তাঁদের অলস বসে থাকতে হয়। শীতের দুই থেকে তিন মাস তাঁদের মূল মৌসুম। গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ায় কাজের চাপও বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী লেপ-তোষক তৈরি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে।
তাঁরা জানান, তোষক তৈরির মজুরি ২০০ টাকা, লেপের ২০০ টাকা এবং জাজিমের ৩০০ টাকা। দুজন কারিগর মিলে প্রায় ৩০ মিনিটে একটি করে ভালো মানের তোষক, লেপ বা জাজিম তৈরি করতে পারেন বলে তাঁদের দাবি। প্রতিদিন একজন কারিগর ছয় থেকে সাতটি লেপ তৈরি করে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান। শীতের তীব্রতা বাড়লে কাজের চাপ ও আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।
ক্রেতা আছমা বেগম ও আকতার হোসেন বলেন, এবার কিছুটা আগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই তাঁরা লেপ-তোষক তৈরি করতে বাজারে এসেছেন। মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় মেয়ে ও জামাতার জন্যও লেপ-তোষক এবং বালিশ কিনতে হবে।
তাঁরা জানান, তুলার দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোষকের খরচও বেড়েছে। আগে যে তুলা প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার লেপ-তোষক তৈরির খরচ বেশি পড়ছে।
রিকশাচালক জামাল উদ্দীন বলেন, বাড়িতে শীতের লেপ না থাকায় বাজারে তুলা কিনতে এসেছেন। তুলা কিনে বাড়িতে নিয়ে নিজেই লেপ তৈরি করবেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার তুলার দাম অনেক বেশি।
তাড়াইল সদর বাজারের তুলার দোকানি তাজুল ইসলাম ও আবদুল হাই বলেন, বছরের দুই থেকে তিন মাস তাঁদের ব্যবসার মূল মৌসুম। এ সময় লেপ-তোষকের বিক্রি বাড়ে এবং কারিগররা ব্যস্ত থাকেন। বাকি আট-নয় মাস অনেকটা অলস সময় কাটাতে হয়। গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ায় লেপ-তোষক বিক্রি শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।













Disqus comments are not configured yet.