শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, উচ্ছেদ আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, উচ্ছেদ আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা

দখলকৃত পশ্চিম তীরের একটি চেকপয়েন্টে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরন এলাকার একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে ভবন ধ্বংসের পাশাপাশি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ অভিযান শুরু হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের ভোটের আগে এ হামলার ঘটনা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন তিনি।

হামলার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা হেবরন শহরকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করছে। নেতানিয়াহু শুক্রবার থেকে পুরো পশ্চিম তীর বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তিনি অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে হেবরন ও হালহুল শহরের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির কথা জানান, যা প্রয়োজনে অন্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, হামলার এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং এলাকাটির চেহারা পুরোপুরি বদলে দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের শুরুতে জেনিন, তুলকারেম, নুর শামস ও আল-ফারআ শরণার্থীশিবিরে একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল। এতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা (আইএসএ) এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, হেবরন এলাকায় কয়েক দিনব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো শনাক্ত এবং সেগুলো ধ্বংস করতে পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযানটি মূলত হামলাকারীদের কার্যক্রম পরিচালনার এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

আইডিএফ ও আইএসএ জানিয়েছে, এলাকার বাসিন্দারা তিনটি নির্ধারিত পথ দিয়ে বের হতে পারবেন। এ সময় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। সন্দেহজনক আচরণ বা পরিচয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের বাড়ির মানচিত্র তৈরি, হেবরন ও হালহুলে নিরাপত্তাবেষ্টনী আরোপ, সড়কে প্রতিবন্ধক স্থাপন এবং বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত স্থাপনাগুলোও ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বিতসেলেম’। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি আবাসিক এলাকা খালি করা এবং পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে চালানো গণ-বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসযজ্ঞের পুনরাবৃত্তির ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

শুক্রবার বিকেলেই হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় ভবন ধ্বংসের কাজ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সিএনএনের পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ইসরায়েলি সেনা আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের বলছেন, তাঁদের সরে যাওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, হেবরনের যে এলাকা থেকে হামলাকারীরা এসেছিল, সেখানে বাসিন্দাদের সরিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে। সেখানে পাওয়া অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো শনাক্ত করে ধ্বংস করা হবে।

এদিকে, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজতে এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে দুই বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে কয়েক মিনিট ধরে তীব্র গোলাগুলির দৃশ্য দেখা গেছে। রয়টার্সের একটি ভিডিওতে এক ইসরায়েলি উদ্ধারকর্মীকে বলতে শোনা যায়, গোলাগুলি অন্তত ২০ মিনিট ধরে চলেছিল এবং আহতদের সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছিল।

আইডিএফ আরও জানায়, হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির ঘটনাটিকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, সেনাদের দ্রুত পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গাড়িতে থাকা গোলাবারুদ আরও বড় পরিসরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

জামির বলেন, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান বাড়ানো এবং এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হবে। নেতানিয়াহুও এক বিবৃতিতে হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেন। তবে হামাস হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও এর দায় স্বীকার করেনি।

বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি: দুর্নীতি বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি: দুর্নীতি বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ

বাংলাদেশে দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য। একটি সংঘবদ্ধ দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নে তদবিরের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সব সরকারের আমলেই এ চক্রের সদস্যরা প্রশাসনের অন্দরমহলে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, দালাল চক্রের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান বদলে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাঁদের কারণে প্রশাসনে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে, আর বদনাম হয় সরকারের।

কোনো কর্মকর্তা ঘুষ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পদে নিয়োগ বা পদায়ন পেলে তাঁর প্রথম লক্ষ্য হয়ে ওঠে সেই টাকা তুলে আনা। ফলে নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েই জনগণের সেবা করার পরিবর্তে তিনি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ঘুষ দিয়ে পদে বসার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা জবাবদিহি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। এভাবেই সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতির বিস্তার ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগও নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি দপ্তরে বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কয়েকটি পদে লটারির মাধ্যমে বদলি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পদ্ধতি সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি ও পদায়ন ঘিরে দুর্নীতির সুযোগ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অতীতে ভূমি নিবন্ধন খাতে সাবরেজিস্ট্রার পদায়নকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল ব্যাপক। জমি নিবন্ধনের সময় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় এ পদকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে বণ্টনের অভিযোগও রয়েছে। কিছু লাভজনক পদে পদায়নের জন্য রীতিমতো দরকষাকষি ও নিলামের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

গুলশান, গাজীপুর, রূপগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের মতো এলাকায় সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে পদায়ন পেতে কয়েক কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। লটারির মাধ্যমে বদলি চালুর ফলে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ কমানোর একটি পথ তৈরি হয়েছে।

তবে সাবরেজিস্ট্রারদের বদলিতে লটারি পদ্ধতি চালু হলেও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এখনো রয়েছে। সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে শুরু করে চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের পদায়নেও তদবির ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরকারি চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি হতে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিছু লাভজনক পদে পদায়নের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ দিতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পদ ও কর্মস্থলভেদে এই অর্থের পরিমাণ কমবেশি হয়।

অনুসন্ধানে অন্তত ২৫টি পদে অর্থ লেনদেন ছাড়া বদলি হওয়া কঠিন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপকতা ও বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক যাচাই প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে থানাকেন্দ্রিক দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতীতে গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়ন পেতে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখনো পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এমনকি এসব থানায় কনস্টেবল পদে যোগ দিতেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

একজন পুলিশ সদস্য ঘুষ দিয়ে কোনো পদে দায়িত্ব পেলে তাঁর পক্ষে সততা বজায় রাখা কতটা সম্ভব—সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের পদায়ন নিয়েও অতীতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পদায়ন পেতে বেশি অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিব পর্যায়ে পদায়ন ও পদোন্নতি, জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগেও মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরেও লাভজনক পদে বদলি ও পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের কিছু পদে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঢাকায় বদলি হতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকসংকটের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মচারীর বদলি এবং পদায়ন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বদলির পর অনেক চিকিৎসক নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তদবিরের মাধ্যমে ঢাকায় বা আশপাশের এলাকায় থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যের কারণে একদিকে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে জনগণ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সাবরেজিস্ট্রারদের বদলিতে লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ পদ্ধতি দুর্নীতি কতটা কমিয়েছে, তা নির্ধারণে স্বচ্ছ তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের এই পদ্ধতি অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালুর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং যোগ্য ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে পদায়ন করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথমে যোগ্য প্রার্থীদের যাচাই করে একটি তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। এরপর নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে পদায়নের ব্যবস্থা করা হলে স্বচ্ছতা বাড়তে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

একইভাবে জেলা প্রশাসক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত যোগ্যতার তালিকা তৈরি করে লটারি পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত তদবিরের প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে সব পদে একই পদ্ধতি প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের ধরন, বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ ছাড়াই যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদায়ন পেলে তাঁদের ওপর অবৈধ অর্থ আদায়ের চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ তদন্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তবে শুধু লটারি পদ্ধতি চালু করলেই বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। লটারির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা, যোগ্যতার মানদণ্ড প্রকাশ করা, ফলাফল যাচাইয়ের সুযোগ রাখা এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধাপে ধাপে এ পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। দুর্নীতির উৎস বন্ধ করতে পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং সেবার মান উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত অবস্থান কার্যকর করতে বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি একটি সম্ভাবনাময় হাতিয়ার হতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, যোগ্যতার সুরক্ষা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির, বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির, বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শুরু হয়েছে। এতে দেশের প্রথিতযশা সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নিয়েছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে কমিটির আটটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সব আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনের খসড়া তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৭ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

গণভোটের আলোকে সংস্কার প্রক্রিয়া না থাকায় বিরোধী দলগুলো বিশেষ এই সংশোধন কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়নি।

তবে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।

দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ সামনে এনেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর ফকিরাপুলে ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন তিনি।

রিজভী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশে নতুন করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, বিরোধীদের অপপ্রচার ও উসকানিতে কান না দিয়ে সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের অর্জন তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাঁর মতে, এটি সরকারের সঠিক নীতির প্রতিফলন।