শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

জাহাঙ্গীর হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার মিঠামইন বিএনপির গণমিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জাহাঙ্গীর হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার মিঠামইন বিএনপির গণমিছিল

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিলের ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মিঠামইন বাজার থেকে এ গণমিছিল শুরু হবে বলে উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

এ কর্মসূচি উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রচারিত পোস্টারে বলা হয়েছে, ‘শহীদ এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ভাই আমাদের নেতা, আমাদের অহংকার।’ তাঁর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বিক্ষোভ ও গণমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে মিঠামইন বাজারে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।’

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দীন ভূইয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের এমপি মহোদয়ের নির্দেশে এ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমরা সবাই চাই, আমাদের নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই গ্রেপ্তার হোক এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক নানা নাটকীয়তার কারণে সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে। আগামীকালের কর্মসূচি জনতার বাঁধভাঙা জোয়ারে পরিণত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার রাতে মিঠামইনে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সরাইলের ওসির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ালেন এমপি রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
সরাইলের ওসির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ালেন এমপি রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুজনকে পরস্পরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলতে শোনা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া সে ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। নিরাপত্তা না দেওয়ার কারণ এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় নিয়ে এসেছেন রুমিন ফারহানা।

এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

জবাবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন। তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’

এর উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।

রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। তিনি বলেছেন, আমি ইটভাটা থেকে টাকা নিই। হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে পুলিশের একটি টিম রাখা ওই সময় কঠিন ছিল।’

অন্যদিকে, ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘তিনি বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে।’

তিনি আরও বলেন, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার টাকা নেওয়া ও ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাঙ্গার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ সেখানে যায়। এসব বিষয় জানতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওসি তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে করা উচিত নয়। এ সময় তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর ওসি’ বলেও মন্তব্য করেন।

তবে ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পিএইচপির নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
পিএইচপির নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ

জরুরি সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি থেকে সম্ভাব্য সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওয়েবসাইটটিতে কোনো সাইবার হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং তা সমাধানের কাজ চলছে। ঝুঁকি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, জরুরি নিরাপত্তা সমস্যার কারণে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য হামলাকারীরা দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করার সুযোগ পেতে পারেন।

এ ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগানো হলে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমনকি সংশ্লিষ্ট সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এ কারণে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি পিএইচপিভিত্তিক আরও কিছু ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আলোচিত নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে কোনো সাইবার হামলা চালানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা। বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন সেবা পরিচালনায় এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। তবে কোনো ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহার করা হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে না। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ, সার্ভারের কনফিগারেশন এবং অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপির সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ করা জরুরি। দ্রুত ত্রুটি সংশোধন সম্ভব না হলে ফায়ারওয়াল ব্যবহার, অননুমোদিত সংযোগ সীমিত করা এবং প্রয়োজনে সার্ভার সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্য ও অনলাইন সেবা ব্যবহারে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ওয়েবসাইটটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সন্তানের হাতে অল্প বয়সে মোটরসাইকেল-অ্যান্ড্রয়েড ফোন তুলে দেবেন না: এমপি জালাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
সন্তানের হাতে অল্প বয়সে মোটরসাইকেল-অ্যান্ড্রয়েড ফোন তুলে দেবেন না: এমপি জালাল

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেছেন, সন্তানদের সব আবদার পূরণ করা অভিভাবকদের উচিত নয়। বয়স ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে তাদের আবদার পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের হাতে মোটরসাইকেল ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। অপরিণত বয়সে এসবের ব্যবহার সন্তানদের বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সোনালী স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সন্তানের অন্যায় আবদার পূরণ করতে গিয়ে তাকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কিনে দিচ্ছেন। মোবাইল কিনে দিলেন, নাকি আপনার সন্তানকে ধ্বংস করে দিলেন? এই ধ্বংসের জন্য দায়ী আপনারা, সেই অভিভাবকেরা, যারা সন্তান পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলেই মোটরসাইকেল কিনে দেন।’

সড়ক দুর্ঘটনায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সেদিন আফতাবউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রথম হওয়া ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য কি শুধু সে-ই দায়ী? প্রশ্নটি আপনাদের বিবেকের কাছে রাখলাম। আমি ওই শিক্ষার্থীকে দায়ী করি না। ছোটরা আবদার করবে, কিন্তু তাদের সব আবদার কি আমাদের পূরণ করতে হবে?’

মোটরসাইকেলের গতি এবং শিশু-কিশোরদের তা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাবা পালসার বা অ্যাপাচির মতো মোটরসাইকেল চালান, আর অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকেও একই ধরনের মোটরসাইকেল কিনে দিতে হয়। এসব মোটরসাইকেলের গতি মুহূর্তেই ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটারে উঠে যায়। এই গতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নেই।’

অভিভাবকদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, একজন ভাই হিসেবে বলছি, সন্তানদের এমন সর্বনাশ করবেন না। তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল তুলে দেবেন না। তারা গেম খেলতে খেলতে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে, অথচ আপনারা খবরও রাখছেন না। মোটরসাইকেল নিয়ে তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, সেদিকেও নজর রাখছেন না।’

তিনি বলেন, মোটরসাইকেল পাওয়ার পর কিশোরদের বন্ধুমহল বড় হয়। এর ফলে তারা খারাপ সঙ্গেও জড়িয়ে পড়তে পারে। একপর্যায়ে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে তা থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি তাদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সন্তানদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, জীবনের এ পর্যায়ে এসে সন্তানদের মানুষ করে তোলাই অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। সন্তানরা সঠিকভাবে গড়ে উঠলেই অভিভাবকদের জীবন সার্থক হয়।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, বর্তমানে শিশুরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি পাচ্ছে এবং ক্রেস্ট, বৃত্তির অর্থ ও সনদপত্র অর্জন করছে। তাঁদের সময়ে এ ধরনের সুযোগ ছিল না। বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন শিশুদের মেধা বিকাশে কাজ করছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ।

বিশেষ করে প্রবাসীদের স্ত্রীদের একা সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি মায়েদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানান। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও যথাযথ দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি তৌফিকুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদ ফারুক খোকন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান সুমন এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহীন আলম জনি।

অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৭০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।