বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আসছে নতুন শিক্ষাক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আসছে নতুন শিক্ষাক্রম

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে শিক্ষাক্রম, শিক্ষক, তদারকি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘মাঠপর্যায় থেকে সংস্কার: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রের উন্নয়ন করে অন্যগুলোকে উপেক্ষা করলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও প্রায়োগিক শিখনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে শিখন-সময়ের বৈষম্য কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর জোর দেন তিনি।

শিক্ষকদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিয়োগ, প্রাক্‌-চাকরি প্রশিক্ষণ, পদায়ন, পেশাগত উন্নয়ন ও মূল্যায়নকে সমন্বিত করে একটি ‘শিক্ষক নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ চলছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। বর্তমান সরকারের প্রথম অর্থবছরে এ খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি শিক্ষকসংকট দূর করা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

খাবারের দোকান থেকে বেকারি- নিবন্ধন নিতে হবে সব খাদ্য ব্যবসায়ীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
খাবারের দোকান থেকে বেকারি- নিবন্ধন নিতে হবে সব খাদ্য ব্যবসায়ীকে

রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারজাত করা খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। নির্ধারিত ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএফএসএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাত।

তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই প্রবিধানমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়।

নতুন বিধান অনুযায়ী, ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন নিতে হবে। এসব শ্রেণির ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্ধারিত চার শ্রেণির বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসার জন্য লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নিবন্ধনের আওতায় আসছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী এবং প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতা, পাইকারি মুদি ব্যবসায়ী, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানিকারকদেরও প্রযোজ্য নিবন্ধন নিতে হবে।

শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বিশেষ পুষ্টির চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের খাবার, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যসহ নির্দিষ্ট বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জৈব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, জেনেটিক্যালি মডিফায়েড খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য ৫.১ নম্বর ফরম এবং নির্ধারিত লাইসেন্সের জন্য ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ নম্বর ফরমে আবেদন করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিএফএসএর সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগও রয়েছে।

স্থাপনার আয়তন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের স্থাপনার লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের স্থাপনার নতুন লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে পণ্যের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করা এবং অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে ভোক্তারা সুবিধা পাবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বিএফএসএ জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে খাদ্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

তাড়াইলের মাঠজুড়ে সবুজ আমন, বাম্পার ফলনের স্বপ্ন কৃষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
তাড়াইলের মাঠজুড়ে সবুজ আমন, বাম্পার ফলনের স্বপ্ন কৃষকদের

যত দূর চোখ যায়, দেখা মেলে শুধু সবুজ আর সবুজ। ফসলের মাঠজুড়ে যেন সবুজের চাদর বিছানো। রোদ-বৃষ্টির খেলায় প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সবুজের স্নিগ্ধ আভা। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর হালকা বাতাসে দুলছে আমন ধানের ক্ষেত। সবুজের ঢেউখেলানো এমন মনোরম দৃশ্য এখন চোখে পড়ছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। মাঠজুড়ে আমন ধানের সবুজ সমারোহ দেখে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও তদারকিতে আধুনিক কৃষিপদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে। চলতি মৌসুমে তাড়াইলের কৃষকেরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমিতে ধানগাছের সবুজ সতেজতা দেখে তাঁদের মনে দানা বাঁধছে আগামীর সোনালি স্বপ্ন। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে শেষ পর্যন্ত অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের জন্য ৫৪০ হেক্টর, উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের জন্য ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের জন্য ৩ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হাইব্রিড ৫০০ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার তালজাঙ্গা, রাউতি ও তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আমন ধানের সবুজ সমারোহ। কোথাও কৃষকেরা জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কোথাও ধানগাছের বেড়ে ওঠা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁরা। কৃষকদের আশা, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে।

উপজেলার এক কৃষক ছফর উদ্দীন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। সময়মতো সার প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যা করায় ধানগাছের অবস্থা বেশ ভালো। জমির বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলেই কেবল সেই আশা পূরণ হবে বলে মনে করেন তিনি।

আরেক কৃষক মুহিবুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার তিনি ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে চাষাবাদ, শ্রমিকের মজুরি, সারসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে তাঁর জমি সবুজ ধানগাছে ভরে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে ধানের শীষ বের হবে। নিয়মিত জমির পরিচর্যা করছেন তিনি। গত বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন এই কৃষক।

তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা আফরিন রোবাইয়া সাথী, আরাফাত হোসাইন ও গোলাম মুহাম্মাদ সুমন বলেন, আমন ধানের চারা রোপণের পর থেকে জমিতে যথাযথ পরিচর্যা করায় মাঠের অবস্থা ভালো রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকেরা ভালো ফলনের আশা করছেন। ধানখেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমাতে তাঁরা কৃষকদের জমিতে কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতের ধান চাষ এবং জমির নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ফলন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, বর্তমানে উপজেলার আমন ধানের ক্ষেতগুলো সবুজে ছেয়ে গেছে। কৃষকেরা যাতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান, সে জন্য কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে আমন ধানের ভালো, এমনকি বাম্পার ফলনও হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বলিউডে নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভারী অস্ত্রধারী কমান্ডোদের সঙ্গে সালমান

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
বলিউডে নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভারী অস্ত্রধারী কমান্ডোদের সঙ্গে সালমান

বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভারী অস্ত্রধারী কমান্ডোদের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে দেখা গেছে অভিনেতা সালমান খানকে। গত ১৮ অক্টোবর অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে হাজির হন বলিউডের ‘ভাইজান’।

বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় সালমানের চারপাশে ছিলেন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিটের কমান্ডোরা। গাঢ় খয়েরি বা নীল রঙের শার্ট, ডেনিম জিন্স, কালো বুট ও অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস পরা অভিনেতাকে বেশ সতর্ক অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর নিরাপত্তায় বাড়তি কড়াকড়ি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে অব্যাহত হুমকির কারণে সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পর বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর মধ্যে সালমানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা নজর কেড়েছে।

হামলার ঘটনার পর টাইগার শ্রফের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও পর্যালোচনার পর চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। এরপর থেকেই তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের তৎপরতা আলোচনায় এসেছে।

টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম জড়িয়ে নতুন করে হুমকি আসার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।

হামলার পর গ্যাংয়ের দুই সহযোগী অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোস্টে তাঁরা লেখেন, ‘আজ টাইগার শ্রফের সঙ্গে হওয়া ঘটনার দায় অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু নিচ্ছি। আমরা তাকে আগে ফোন করে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু সে বোঝেনি; তাই আজ তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হলো।

মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে শহরে একের পর এক হামলার ঘটনায় বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। এমন পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্বদের সুরক্ষায় প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।