বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

ওসি-আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কটিয়াদী বিএনপি সভাপতির

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৩১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ওসি-আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কটিয়াদী বিএনপি সভাপতির

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ করে বলেছেন,

“আমি মারা গেলে আমার মৃত্যুর দায় নিতে হবে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলামকে।”

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে আচমিতা বাজারে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

আব্দুল হান্নান বলেন, “আমি আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ওসি আমাকে গুরুত্ব দেন না, তিনি টাকাকে কেয়ার করেন। আচমিতা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন গরম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হোটেল ব্যবসার আড়ালে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন তার হোটেলে অভিযান চালিয়ে যুবক-যুবতীদের গ্রেপ্তার করে হোটেল বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই মাহতাব উদ্দিন গরম আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন গরম ও ওসি তরিকুল ইসলাম মিলে তাকে হয়রানি করছেন। আওয়ামী লীগের একটি চক্র গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের গাড়িতে অস্ত্র থাকে বলেও দাবি করেন তিনি।

“আমি আশঙ্কা করছি, তারা যেকোনো সময় আমাকে হত্যা করতে পারে। আগামীকাল যদি আমি মারা যাই বা আমার পরিবারের কারও ক্ষতি হয়, তাহলে এর দায় মাহতাব উদ্দিন গরম ও ওসি তরিকুল ইসলামের নিতে হবে,”
— বলেন আব্দুল হান্নান।

বিএনপি নেতা আরও জানান, গত ৩ নভেম্বর আচমিতা গ্রামের মাসুদ মিয়া ও তার চাচাতো ভাই শাকিলের পারিবারিক বিরোধের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। এরপর তার ছেলে কলেজছাত্র জুনায়েদকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমার বা আমার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু ওসি তরিকুল ইসলাম তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর থেকেই একটি মহল তার বিরুদ্ধে সক্রিয়।

“আমি এলাকার অনৈতিক কাজের বিরোধিতা করি, এই জন্যই আজ আমি টার্গেট।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন,

“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। কেউ যদি তাকে হুমকি দেয়, তিনি থানায় জিডি করতে পারেন, আমরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেব। সম্প্রতি তাদের আত্মীয়দের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে, দুই পক্ষই মামলা করেছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হবে না।”

কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এদিন দলের পক্ষ থেকে আরও ৩৫ জনকে বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য। দলীয় তৃণমূলের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই তার নামের পক্ষে ছিল। স্থানীয় নেতা–কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছেন। একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকারও হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ–৫ আসনটি বাজিতপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। নিকলী-বাজিতপুর উপজেলার নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, বাজিতপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯০ জন এবং নিকলীতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ জন। এই আসনে সর্বমোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৬৭ জন।

কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফায় কিশোরগঞ্জের দুইটি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, আর কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।

বৃহস্পতিবার গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ৩৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেখানে কিশোরগঞ্জের এই দুই আসনে নতুন মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। সেই তালিকায় কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ড. ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মো. শরীফুল আলম মনোনয়ন পান। নতুন ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। অন্যদিকে মো. মাজহারুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় ৩৬ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পৌনে ৪টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে, গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭ আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে মাদারীপুর-২ আসনে ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করে দলটি। এবার ঘোষিত আসনে মাদারীপুর-২ আসনটি রয়েছে, যেখানে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। ঘোষিত এই ৩৬ আসনের মধ্যে টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-৯-এ হাবিবুর রহমান, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। মনোনয়ন পাওয়া অপর আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৫, নড়াইল-২, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সিগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-২।