বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

যানজটের নগরী তাড়াইল: দিনভর স্থবির শহরজীবন

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যানজটের নগরী তাড়াইল: দিনভর স্থবির শহরজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদর এখন যেন স্থায়ী যানজটের নগরী। উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে থানার মোড়, জাওয়ার রোড ও সদর বাজার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি লেগে থাকে যানজট। ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিয়মিত।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী ভ্যানের চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সড়কের পাশে অবৈধ দোকান ও হকারদের দখলও যানজটকে তীব্র করছে। দোকানদাররা নিত্যপণ্য সরাসরি রাস্তায় রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এক গলির বাজার হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মালবোঝাই ট্রাক বাজারে ঢুকলে যানজট আরও বেড়ে যায়। উপজেলা পরিষদ থেকে থানার মোড় পর্যন্ত কয়েকশ মিটার এলাকায় যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে থাকে।

এক পথচারী বলেন, “বাজারে ঢুকলে আর বের হতে ইচ্ছে করে না, কারণ সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে।” ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যানজটের কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তেমন নজরদারি নেই। নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় চালকেরা যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলে, এতে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জিসান আলী বলেন, “যানজট নিরসনে আমরা চেষ্টা করছি। তাড়াইলে নির্দিষ্ট কোনও স্ট্যান্ড না থাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য আমরা নিয়মিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা করি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথেও মতবিনিময় হয়েছে। নিজ নিজ ইউনিয়নের যানবাহন যদি ওই ইউনিয়নের প্রবেশপথ অতিক্রম না করে, তাহলে যানজট অনেকটা কমে আসবে।”

তাড়াইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান বলেন, “তাড়াইলে ট্রাফিক বিভাগ ও ট্রাফিক পুলিশ নেই। আমরা কোনও ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক একশনে যেতে পারি না শুধু যানজটের কারণেই। থানার গেটেই প্রচুর যানজট লেগে থাকে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির ভেতর বসে থাকতে হয়।”

সচেতন মহলের মত, সদর বাজার এলাকায় দিনের বেলায় যদি ট্রাক ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা যায়, ফুটপাতে হকার ও অবৈধ দোকান সরানো হয় এবং বিকল্প পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তবে যানজট অনেকটাই কমে যাবে।
সুশীল সমাজ মনে করেন, তাড়াইল বাজার বণিক সমিতি উদ্যোগী হলে ও ব্যবসায়ীরা একযোগে সচেতন হলে যানজট নিরসন সম্ভব। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের স্থায়ী টহল থাকলে তাড়াইলকে যানজটমুক্ত করা সম্ভব। অন্যথায় “যানজটের নগরী তাড়াইল” নামটি আরও স্থায়ীভাবে গায়ে লেগে থাকবে।

কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এদিন দলের পক্ষ থেকে আরও ৩৫ জনকে বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য। দলীয় তৃণমূলের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই তার নামের পক্ষে ছিল। স্থানীয় নেতা–কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছেন। একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকারও হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ–৫ আসনটি বাজিতপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। নিকলী-বাজিতপুর উপজেলার নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, বাজিতপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯০ জন এবং নিকলীতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ জন। এই আসনে সর্বমোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৬৭ জন।

কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফায় কিশোরগঞ্জের দুইটি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, আর কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।

বৃহস্পতিবার গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ৩৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেখানে কিশোরগঞ্জের এই দুই আসনে নতুন মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। সেই তালিকায় কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ড. ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মো. শরীফুল আলম মনোনয়ন পান। নতুন ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। অন্যদিকে মো. মাজহারুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় ৩৬ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পৌনে ৪টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে, গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭ আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে মাদারীপুর-২ আসনে ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করে দলটি। এবার ঘোষিত আসনে মাদারীপুর-২ আসনটি রয়েছে, যেখানে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। ঘোষিত এই ৩৬ আসনের মধ্যে টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-৯-এ হাবিবুর রহমান, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। মনোনয়ন পাওয়া অপর আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৫, নড়াইল-২, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সিগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-২।