কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এ নৌকা বাইচকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা সদরের সুয়াইজনি নদীসংলগ্ন চলিহাতি হাওরে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালের পর নিকলীতে এই প্রথম বড় পরিসরে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজক ও স্থানীয়রা জানান। ভাটি অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত নৌকা বাইচ একসময় এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিনোদন ও আনন্দের উৎস ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ঐতিহ্য ফিরে আসায় প্রতিযোগিতা দেখতে হাওরপাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এ এম সাজ্জাদুল হক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরিফসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রতিযোগিতায় তিন পর্বে বিভিন্ন নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি পর্বে প্রতিযোগীদের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। হাওরের পানিতে নৌকার ছন্দময় গতি, মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠার টান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে একটি এলসিডি টেলিভিশন এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য নৌকার মাঝিদেরও আয়োজকদের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণ শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল বলেন, নৌকা বাইচ ভাটি অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের লোকজ সংস্কৃতি দীর্ঘদিন অবহেলিত না রেখে প্রতিবছর নৌকা বাইচের আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, নৌকা বাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে ভাটি অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব।
নৌকা বাইচ শেষে উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে পুরোনো শহীদ মিনার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নৌকা বাইচের আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কার্যক্রমও শুরু হলো।
দীর্ঘ বিরতির পর নৌকা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।