বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

অ্যাফিডেভিটে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করলেন ব্যবসায়ী মাহবুব

রেজাউল হক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অ্যাফিডেভিটে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করলেন ব্যবসায়ী মাহবুব

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

মাহবুবুর রহমান ছয়সূতি ইউনিয়নের কান্দিগ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ব্যবসায়ী। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার তিনি অ্যাফিডেভিটে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আজ রোববার সকাল থেকে তাঁর দল ত্যাগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

“নেতা পাই না”—অ্যাফিডেভিটে দল ছাড়ার ব্যাখ্যা

অভিনব কায়দায় দল ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলো-কে বলেন,
“অফিসে যাই—তালা। বাড়িতে গেলে উত্তর আসে—নাই। নেতা পাই না, তাই অ্যাফিডেভিট করে আওয়ামী লীগকে ছাড়তে হলো।”

অ্যাফিডেভিটে পদত্যাগের কারণ

অ্যাফিডেভিটে মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন—

  • বর্তমান ও অতীতের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না।

  • ২০১৪ সালে তিনি দলীয় পদে আসেন, তবে কখনো সক্রিয় ছিলেন না।

  • তাঁর পদত্যাগের পর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

চাপা কষ্ট ও মামলার কারণেই রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত

পরিবার সূত্র জানায়—মাহবুবুরের ভিন্ন কৌশলে দল ছাড়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের চাপা কষ্ট। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়। মামলাগুলো রাজনৈতিক নয়—পারিবারিক ও ব্যবসায়িক বিরোধ থেকে হওয়া মামলা।
তাঁর বিশ্বাস—দলের কিছু নেতার ইন্ধনেই এসব মামলার সৃষ্টি, আর এ কারণেই তাঁর বছরের বড় সময় আদালতে কাটাতে হয়।
এ থেকেই তাঁর মনে হয়েছে—“রাজনীতি আর নয়।”

দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন—
“দলীয় কার্যালয়ে কাউকে পাওয়া যায় না—এটা সত্য। তবে চাইলে যেকোনো দায়িত্বশীল নেতার হাতেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারতেন। তা না করে ভিন্ন কৌশলে অ্যাফিডেভিট করার পেছনে তাঁর ভিন্ন মতলব থাকতে পারে। এতে তিনি দলকে ছোট করেছেন, স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়েছেন।”

মাহবুবুর রহমানের পাল্টা ব্যাখ্যা

এ বিষয়ে মাহবুবুর বলেন,
“এখনো পাঁচটা মামলা চলছে। আদালতে দৌড়াতে দৌড়াতে কাহিল। শারীরিক অবস্থাও ভালো না। ভিন্ন মতলব নেই। সামাজিকতা ছাড়া আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চাই না—রাজনীতিও না। আর আমি যে পদত্যাগ করলাম—নেতারা এলাকায় না থাকায় সেটা সবাইকে বিশ্বাস করাতে অ্যাফিডেভিট করা ছাড়া আর উপায় ছিল না।”


কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এদিন দলের পক্ষ থেকে আরও ৩৫ জনকে বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য। দলীয় তৃণমূলের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই তার নামের পক্ষে ছিল। স্থানীয় নেতা–কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছেন। একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকারও হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ–৫ আসনটি বাজিতপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। নিকলী-বাজিতপুর উপজেলার নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, বাজিতপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯০ জন এবং নিকলীতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ জন। এই আসনে সর্বমোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৬৭ জন।

কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফায় কিশোরগঞ্জের দুইটি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, আর কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।

বৃহস্পতিবার গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ৩৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেখানে কিশোরগঞ্জের এই দুই আসনে নতুন মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। সেই তালিকায় কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ড. ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মো. শরীফুল আলম মনোনয়ন পান। নতুন ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। অন্যদিকে মো. মাজহারুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় ৩৬ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পৌনে ৪টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে, গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭ আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে মাদারীপুর-২ আসনে ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করে দলটি। এবার ঘোষিত আসনে মাদারীপুর-২ আসনটি রয়েছে, যেখানে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। ঘোষিত এই ৩৬ আসনের মধ্যে টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-৯-এ হাবিবুর রহমান, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। মনোনয়ন পাওয়া অপর আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৫, নড়াইল-২, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সিগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-২।