রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

এডাব এর উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত

মো: মিজনুর রহমান রিপন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এডাব এর উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাসমূহের একটি সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে আজ ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এডাব কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও র‍্যাক-বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ ইবাদুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েপ এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান মারুফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ মঈনুর রহমান মনির ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম মিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ কামরুল হাসান মারুফ বলেন, “এসডিজি বাস্তবায়ন একটি জাতীয় প্রতিশ্রুতি। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা দারিদ্র্যতা হ্রাস, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করতে পারবো।” তিনি এ লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ, তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব এবাদুর রহমান বাদল বলেন, “এডাব দেশব্যাপী সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে এসডিজি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। কিশোরগঞ্জেও আমরা উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে পারস্পরিক সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন কর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিন্ন মত প্রকাশ পাওয়া যায় যে, একযোগে কাজ ও পরিকল্পিত উদ্যোগই দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।
সেমিনারে কোরান তেলাওয়াত করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মসজিদের ঈমাম মোঃ আব্দুল মতিন ভূঁঞা। এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক সেমিনারের উপর প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন এডাব সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী মু. বাবুল আখতার। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিটের সভাপতি মোঃ ফাইজুল হক গোলাপ, আরডিও’র নির্বাহী পরিচালক ও এডাব কার্যকরি সদস্য রুবিনা আক্তার, উইডু’র সমন্বয়কারী ও এডাব কার্যকরি সদস্য খায়রুল ইসলাম, তৃষ্ণা সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক তারিকুল আলম, এফএইচপি’র এরিয়া ম্যানেজার মোহন নাগ ও কুড়িমারা আলোকিত যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাওর বাচাঁও আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান লিপন, আইনজীবি আসাউজ্জামান জুয়েল, আলোকিত সামাজিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, কালের নতুন সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার রিতু আক্তার, ছাত্রী সাবরিনা রহমান পূর্ণ ও রৌদিয়া রহমান প্রাপ্তিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ প্রমুখ। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ডিএসও’র প্রতিনিধি মো আজিজুল হক ফাহিম।

কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ মো. সবুজ (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় ঈসাখাঁ ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জের ‘ক’ সার্কেলের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. সবুজ ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার আকুয়া (মড়লপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আসলাম এবং মায়ের নাম নূরজাহান।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভা। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়াসিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পীযুষ কান্তি ঘোষ এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাই সচেতন হলে মশার প্রজননস্থল কমানো এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কুলিয়ারচরকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জের শেরাটন হোটেলের হলরুমে ‘যতক্ষণ না আমরা সবাই সমান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ সভার আয়োজন করা হয়। ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক এ আয়োজন করে যুব সংগঠন ‘তারুণ্যের আহ্বান’।

সভায় জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত গৎবাঁধা ধারণা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা এবং অ্যাডভোকেসির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত একপেশে ধারণা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায়। এসব ধারণা পরিবর্তনে পরিবার থেকেই ইতিবাচক চর্চা শুরু করতে হবে।

আলোচনায় উঠে আসে, ঘরের কাজ শুধু নারীদের দায়িত্ব, ছেলেরা রান্না করতে পারে না, নারীরা নেতৃত্বে দুর্বল কিংবা ছেলেদের আবেগ প্রকাশ করা উচিত নয়—এমন ধারণা সমাজে বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে। পাশাপাশি নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশ, শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের পথে বিদ্যমান সামাজিক বাধা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক ও অতিরিক্ত উপহারের চাপ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, ছেলে ও মেয়েশিশুর প্রতি সমান আচরণ, পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কমিউনিটির সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন হয়রানি মোকাবিলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দক্ষতা তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শনাক্ত করতে গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার কৌশল নিয়েও মতবিনিময় হয়। বক্তারা বলেন, অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে তরুণদের মতামত ও দাবি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সরকারি সহযোগিতার সুযোগ সম্পর্কে তরুণদের অবহিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল আমিন ভূঞা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তফা গিয়াস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘তারুণ্যের আহ্বান’-এর সভাপতি সুমন আচার্য্য।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, “জেন্ডার বৈষম্য দূর করার কাজ পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ কার্যকর করতে যুবসমাজ, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। শুধু সচেতনতা সৃষ্টি নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও প্রয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আলোচনা তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও যুবসমাজের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম করবে।