বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সরারচরে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া

বাজিতপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সরারচরে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা  ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল ৪ ঘটিকায় সরারচর মজলিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-০৫(বাজিতপুর–নিকলী) নির্বাচনী আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।  অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সরারচর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া।  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলে মোহাম্মদ আলম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন মিয়া,  উপজেলা বিএনপির সমবায় সম্পাদক মীর মাসুদ রানা, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লিটন ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শেখ রাফিদ রহমান, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুর্তজা আলী জাহাঙ্গীর, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ আলী হাসান সবুজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইফতেখার হায়দার ইফতি, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল ভূঁইয়া, ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ জুয়েল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রতন মিয়া প্রমুখ।  উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ দল-মত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। মীর মাহিন রানা শান্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এ দোয়া মাহফিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নিকলীতে চোলাই মদ সেবনে অভিযান: ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
নিকলীতে চোলাই মদ সেবনে অভিযান: ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় চোলাই মদ সেবনের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রামের মৃত বাসির উদ্দিনের ছেলে মো. ফেরদৌস (৩২)।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চোলাই মদ সেবনের বিষয়টি স্বীকার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা মজুমদার মুক্তি। এ সময় নিকলী থানা পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

প্যারিসে গোলবন্যা, ৯ গোলের থ্রিলারে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
প্যারিসে গোলবন্যা, ৯ গোলের থ্রিলারে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

প্যারিসে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথম লেগের এই ম্যাচটি ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ভরপুর, যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়-পরাজয় নিয়ে ছিল তীব্র অনিশ্চয়তা।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে হ্যারি কেনের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। তবে ২৪ মিনিটে খভিচা কভারাতসখেলিয়ার গোলে সমতা ফেরায় পিএসজি। ৩৩ মিনিটে জোয়াও নেভেস গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাইকেল ওলিস বায়ার্নের হয়ে সমতা ফেরালেও অতিরিক্ত সময়ে উসমান দেম্বেলের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও নাটকীয় রূপ নেয়। ৫৬ মিনিটে কভারাতসখেলিয়া নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান। পরে দায়ো উপামেকানো বায়ার্নের হয়ে ব্যবধান কমালেও ৬৮ মিনিটে লুইস ডিয়াজ গোল করে আবারও পিএসজিকে স্বস্তি এনে দেন। শেষ দিকে বায়ার্ন আরও একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ৫-৪ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে এক ম্যাচে ৯ গোলের ঘটনা বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখবে। তবে এক গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয় লেগে নামতে হচ্ছে পিএসজিকে, যেখানে বায়ার্নের মাঠে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।

কিশোরগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, তবু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, তবু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জেলায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।

ধান কর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হচ্ছে। এ কাজে ৫৮০ থেকে ৬০০টি হারভেস্টার ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটছেন শ্রমিকরা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৫০ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ১১ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। এ কাজে ৫৬৯টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ২৬ হাজার ৮৮৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

তবে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। হাওরাঞ্চলের কৃষক কনক রানী দাস বলেন, “আমি ১৫ একর জমিতে ধান চাষ করেছি। সার ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম। সরকার নির্ধারিত মূল্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হলে আমরা কিছুটা লাভবান হতে পারতাম।”

কৃষক হরবজন দাস জানান, বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে প্রতি একরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আরেক কৃষক বলেন, “৬৭৫ টাকা দরে ২০০ মণ ধান বিক্রি করেছি। উৎপাদন খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। সরকার ১,৪৪০ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণা দিলেও সাধারণ কৃষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না।”

কৃষকদের দাবি, সরকার ঘোষিত মূল্য যেন প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।