কারাবন্দি আওয়ামী নেতার অসুস্থতার ভুয়া খবর, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা মোতায়েম হোসেন স্বপন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—এমন ভুয়া খবর ছড়িয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম রাকিবুল আলম ছোটন। তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পাকুন্দিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
প্রতারণার শিকার মোতায়েম হোসেন স্বপন পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয়েই পাকুন্দিয়া উপজেলার চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে রাকিবুল আলম ছোটন স্বপনের বাড়িতে গিয়ে দাবি করেন, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার মাধ্যমে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন। ওই বার্তায় বলা হয়, কারাগারে আটক মোতায়েম হোসেন স্বপন স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে তার হৃদযন্ত্রে দুটি রিং পরাতে না পারলে তিনি প্রাণে বাঁচবেন না। এজন্য দ্রুত ৮০ হাজার টাকা পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
এ সময় ছোটন কথিত এক চিকিৎসক ও জেল সুপারের বিকাশ নম্বর পরিবারের হাতে তুলে দেন। বিষয়টি শুনে আতঙ্কিত পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুই নম্বরে ৩৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠায়। পরে আরও ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পাকুন্দিয়া আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতার সহায়তায় ঢাকায় লোক পাঠানো হয়। তবে সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোতায়েম হোসেন স্বপন নামে কোনো রোগী ভর্তি নেই।
পরবর্তীতে পাকুন্দিয়া থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে এমন কোনো তথ্য থানায় আসেনি। জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, মোতায়েম হোসেন স্বপন সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ঘটনার পর স্বপনের পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা চরম অমানবিক ও নিন্দনীয় কাজ।
স্বপনের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন শিশির বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের এলাকার সাবেক কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা রাকিবুল আলম ছোটন। একজন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি এভাবে প্রতারণা করতে পারেন—তা কল্পনাও করিনি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাকিবুল আলম ছোটনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান সুমন বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি কামাল উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়েছে। আগামীকালের বৈঠকে এটি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান বলেন, “কারাগারে আটক কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি—এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি কাউকে দায়িত্ব দিইনি এবং ওসি অফিস থেকেও কোনো বার্তা পাঠানো হয়নি।”
এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সরকারি তথ্য বাতায়নে দেওয়া জেল সুপার রীতেশ চাকমা ও জেলার ফারহানা আক্তারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array