শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

হোসেনপুরের গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ, যান চলাচল বন্ধের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরের গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ, যান চলাচল বন্ধের আহ্বান

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থেকে পাগলা থানা, গফরগাঁও ও ভালুকাগামী সড়কে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদীর ওপর অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই রুটে যান চলাচল বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে ব্রিজের একপাশ দেবে যায় এবং পাটাতনগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে যেকোনো সময় ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) আপাতত সব ধরনের যানবাহন ও পথচারীদের এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিজের দুই প্রবেশপথে লাল ফিতা ও বাঁশ বেঁধে দেন।

তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেক পথচারীকে ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পার হতে দেখা গেছে। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য হোসেনপুর বাজারে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয়রা দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আলা উদ্দিন বলেন,
“ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরের শ্রমজীবী মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প পথে অনেক দূর ঘুরে হোসেনপুর বাজারে যেতে হয়, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ।”

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন,
“দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত সকল প্রকার যানবাহন ও পথচারীদের এই বেইলি ব্রিজ ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ব্রিজটি দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অষ্টগ্রাম থানায় নতুন ওসি, সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর

আলী রহমান খান প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রাম থানায় নতুন ওসি, সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকনুজ্জামানের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে অষ্টগ্রাম থানায় ওসির উদ্যোগে এ সভা আয়োজন করা হয়।

সভায় নবাগত ওসি মো. রোকনুজ্জামান বলেন, পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাংবাদিকদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। তাই পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা সম্ভব।”

মতবিনিময় সভায় উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের সময়-এর প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম সাগর, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রতিনিধি অজিত দত্ত, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকাল-এর প্রতিনিধি আলী রহমান, দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর প্রতিনিধি আতাউল গনি, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন-এর অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি মাহবুব আলম, দৈনিক ইনকিলাব-এর প্রতিনিধি নাদিরুজ্জামান আজমল, দৈনিক আমার সংবাদ-এর উপজেলা প্রতিনিধি ঝুটন মিয়াসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

‘সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে’—করিমগঞ্জে অধ্যক্ষ রমজান আলী

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
‘সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে’—করিমগঞ্জে অধ্যক্ষ রমজান আলী

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ইউনিয়ন দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ রমজান আলী।

শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ রমজান আলী বলেন, “বর্তমান সময়ে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যমজ সন্তানের একজনকে বৈধ ও অন্যজনকে অবৈধ আখ্যায়িত করার মতো বৈষম্য দেখা যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই মাসে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কল্যাণে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি; বরং স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ছিল। তবে সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।” এ সময় তিনি ভবিষ্যতে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং নায়েবে আমীর মাওলানা জোবায়ের আহমেদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ শিক্ষাশিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজিম উদ্দিন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলামসহ উপজেলা কর্মপরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন দায়িত্বশীলরা।

এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, ভৈরবে ইমন হত্যা মামলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, ভৈরবে ইমন হত্যা মামলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া এলাকায় ইমাম হোসেন ইমন নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে লুন্দিয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন নিহতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাদীপক্ষের লোকজন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ রাতে লুন্দিয়া গ্রামের পাগলা বাড়ির ঈসা মিয়ার ছেলে ইমাম হোসেন ইমন বাড়ি থেকে বের হয়ে মোবাইল রিচার্জ কার্ড কিনতে দোকানে যাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের শেখ বাড়ির কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার বন্ধু জুবায়ের (২৩)কেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ঈসা মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৮০ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার এক মাস পার হলেও এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে আসামিরা প্রকাশ্যে বাদীপক্ষকে হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পরপরই উত্তেজিত কিছু লোক প্রতিপক্ষ শেখ বাড়ির কয়েকটি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা রয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালালেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।