রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেড়যুগ ধরে স্কুল-ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গরুর হাট, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দেড়যুগ ধরে স্কুল-ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গরুর হাট, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা

দেড়যুগ ধরে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর ও আঠারোবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়মিত গরু-ছাগলের হাট বসছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা প্রদানেও সৃষ্টি হচ্ছে চরম প্রতিবন্ধকতা। পাশাপাশি সড়কে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

ইউনিয়ন পরিষদের চত্বর ও বিদ্যালয়ের মাঠে সারি সারি গরু-ছাগল, ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় এবং পশুর হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। হাট বসার দিন বিদ্যালয়ে নামমাত্র পাঠদান চলে। একইসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা গ্রহণের ন্যূনতম পরিবেশও থাকে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বুধবার জারইতলা ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর ও আঠারোবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়মিত এই হাট বসছে। শুরুতে গোপী রায়ের বাজার নামে প্রায় ৩৬ শতাংশ ইজারাকৃত জমি এবং কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে জোরপূর্বক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের মাঠেই হাট বসানো শুরু হয়। বর্তমানে এটি জেলার অন্যতম বড় গরুর হাটে পরিণত হয়েছে।

হাটের দিন বিদ্যালয়টি নামমাত্র খোলা থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব নাগরিক সেবা বন্ধ থাকে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। পরিষদের কক্ষগুলোর দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বুধবার হাট বসার কারণে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। হাট শেষে পুরো মাঠ গোবর ও মলমূত্রে ভরে যায়, ফলে খেলাধুলা তো দূরের কথা, স্বাভাবিক চলাচলও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিদ্যালয়ের মূল ফটক দখল করে গরু বেঁধে রাখায় আতঙ্কে থাকতে হয় বলেও অভিযোগ করে তারা।


নিকলী–বাজিতপুর আঞ্চলিক সড়কসংলগ্ন সাজনপুর গরুর হাটে প্রবেশের জন্য সড়কের দুই পাশে গরুবাহী ট্রাক ও পিকআপ দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে প্রতি বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিকলী, বাজিতপুর, ভৈরব ও কটিয়াদি সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমনকি পাশের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও সময়মতো চলাচল করতে পারে না।

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বুধবার হাটের দিন আধা কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ যানজট থাকে। জরুরি রোগী নিয়ে যাতায়াতে অনেক সময় লাগে, এতে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাট বসানোর ফলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটের দিন ইউনিয়ন পরিষদের সব কক্ষ বন্ধ ছিল।

এ বিষয়ে জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইসহাক রানা বলেন, “হাটের দিন সাধারণ মানুষ কম আসে। গরু এলোপাতাড়ি দৌড়ানোর কারণে অনেকে ভয়ে পরিষদে আসেন না। তবে উদ্যোক্তারা দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিষদে ছিলেন।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জোবেদা বেগম বলেন, “হাটের দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো অভিভাবক লিখিত অভিযোগ করেননি।”

একজন শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, হাটের দিন মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। অনেক সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও ইভটিজিংয়ের শিকার হয় শিক্ষার্থীরা।

নিকলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক বলেন, “বুধবার হাটের দিন সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”

হাটের ইজারাদার জমশেদ আলী বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী হাট পরিচালিত হচ্ছে। ইজারাকৃত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশের জন্য বিকল্প পথ আছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু লোক অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করছে।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। এখন জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।