ভৈরবে স্বামীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, চারজন গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে তার স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। এ সময় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যক্তির নাম নাঈম মিয়া।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মাহমুদ হোসেনের ছেলে খোকন মাহমুদ (৪৬), একই এলাকার মধ্যপাড়ার মৃত ধন মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম (৪৫), লিটন মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (৩৫) এবং নুর ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৪৫)।
অপহৃত নাঈম মিয়া ভৈরবের কমলপুর নিউটাউন এলাকার হাছেন আলী মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। অভিযোগকারী নারী তার স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে সাজিয়া খানম নিশি আবুল কাসেমকে তালাক দিয়ে নাঈম মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তালাকের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভৈরব বাজার থেকে নাঈম মিয়াকে অপহরণ করে আবুল কাসেম ও তার সহযোগীরা। পরে তারা সাজিয়া খানম নিশির কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
উদ্ধার হওয়া নাঈম মিয়া বলেন, “আমি বাজারে রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ করি। ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কাসেম ও খোকনসহ কয়েকজন আমাকে বাজার থেকে অপহরণ করে জগন্নাথপুরে নিয়ে যায়। সেখানে হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। তারা ৫০ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে আমাকে হত্যা করার হুমকি দেয়। রাতে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।”
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, “অপহরণের খবর পাওয়ার পর আমি নিজে পুলিশের একটি দল নিয়ে জগন্নাথপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। খোকন মাহমুদের অফিসের ভেতর থেকে শাটার কেটে হাত-পা শিকলবদ্ধ অবস্থায় নাঈম মিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।




