বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

গোবিন্দপুর স্কুল মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গোবিন্দপুর স্কুল মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বেগম খালেদা জিয়া-এর স্মরণে এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় গোবিন্দপুর হাই স্কুল মাঠে ৬নং ওয়ার্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়ার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মাসুদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাসুদ আলম বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আলোকবর্তিকা। তাঁর অবদান এ দেশের মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।” তিনি আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইফতারের আগে এক স্মরণসভায় বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া হিমেল, হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, হোসেনপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরে আলম এরশাদ, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া, জেলা যুবদলের সদস্য মো. আজহারুল ইসলাম স্বপন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিক হোসেন মেম্বার, হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিকচন খাঁন নাঈম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. সোহেল রানা, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন নবীনদলের সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. শরিফ আহমেদ শরিফ, সাবেক ছাত্রনেতা মো. মামুন মিয়া ও মো. বুলবুল আহমেদ, জনপ্রিয় ছাত্রনেতা মো. সাগর আহমেদ এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফকরুল ইসলাম শরিফসহ আরও অনেকে।

মাহফিলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। ইফতারের আগ মুহূর্তে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

ভৈরবে বাবার হাতে ৭ মাসের সন্তান খুন, ডোবা থেকে মিলল মরদেহ

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
ভৈরবে বাবার হাতে ৭ মাসের সন্তান খুন, ডোবা থেকে মিলল মরদেহ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাবার হাতে ৭ মাস বয়সী সন্তান খুনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকায় একটি ডোবা থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা মেরাজ মিয়া (২৪) ও শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম (৬০) পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকদী পূর্বকান্দা হাওর এলাকার ধানক্ষেত সংলগ্ন গোলাপ মিয়ার ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম তানভির ওরফে মোজাহিদ।

ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে মেরাজ মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের পুরানগাঁও এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে তাসলিমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাত মাস আগে জন্ম নেয় এই সন্তান। মেরাজ মিয়া পেশায় অটোরিকশা চালক ও জুতার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারে কলহ হতো।

প্রায় ১০ দিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে মেরাজকে তার মা ও ভাইয়েরা বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানেও দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে।

এক সপ্তাহ আগে শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নানাবাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিজ বাড়িতে রেখে দেন এবং কয়েকদিন পর শিশুটির মাকে জানানো হয়, শিশুটিকে তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবার পুলিশকে জানায়।

অভিযোগ রয়েছে, ২২ এপ্রিল রাতে মেরাজ মিয়া শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানান, তিনি শিশুটিকে গোলাপ মিয়ার ডোবায় ফেলে এসেছেন। পরদিন সকালে স্বজনরা স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

শিশুটির মা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে ও আমার সন্তানকে হত্যার হুমকি দিত। ২২ এপ্রিল সে ফোন করে জানায়, আমার ছেলেকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। আমার সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চলন্ত সিএনজিতে আগুন, ইঞ্জিনে মিলল ১৯ কেজি গাঁজা

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
চলন্ত সিএনজিতে আগুন, ইঞ্জিনে মিলল ১৯ কেজি গাঁজা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলন্ত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় গাড়িটির ইঞ্জিনের ভেতর থেকে ১০ পোটলায় প্রায় ১৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল প্রায় ১১টার দিকে পৌর শহরের চণ্ডিবের উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আগুন নেভানোর একপর্যায়ে সিএনজির ইঞ্জিনের ভেতরে কালো পলিথিনে মোড়ানো ৯টি অক্ষত বান্ডেল এবং একটি ছেঁড়া বান্ডেলসহ মোট ১০টি পোটলা পাওয়া যায়। পরে সেগুলোতে গাঁজা রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা টের পেয়ে সিএনজির চালক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিএনজিটি জব্দ করে এবং উদ্ধারকৃত গাঁজা থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত গাঁজার পরিমাণ আনুমানিক ১৯ কেজি। সিএনজিটি কোন এলাকা থেকে কোথায় যাচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডিএমপির ডিসি মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জের নতুন এসপি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
ডিএমপির ডিসি মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জের নতুন এসপি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে কিশোরগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তিনি ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।

মিজানুর রহমান কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গঙ্গামণ্ডল রাজ ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি এবং সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন—উভয় পরীক্ষায়ই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন।

২৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডারে যোগদানের পর তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি র‍্যাব, এপিবিএন (APBn) এবং পিবিআইতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ডিএমপির গুলশান ট্রাফিক বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়ন, যানজট নিরসন এবং আইন প্রয়োগে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার বিভিন্ন আবাসিক সোসাইটির সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। জনদুর্ভোগ কমাতে তার এসব উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিকবার ‘শ্রেষ্ঠ ডিসি’ পুরস্কার অর্জন করেন।

ব্যক্তিগতভাবে তিনি লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। ‘রহমান শেলী’ ছদ্মনামে সহজ ও সাবলীল ভাষায় লিখে থাকেন। যদিও তার সরকারি নাম মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। কবিতা, উপন্যাস, ক্রাইম ফিকশন, গোয়েন্দা কাহিনী, সমসাময়িক বিষয়সহ বিভিন্ন ধারায় তার লেখালেখি বিস্তৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৪টি, যা ‘রহমান শেলী’ নামেই প্রকাশিত। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৯ সালে প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘শ্রেষ্ঠ লেখক’ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পুলিশ সংগীত রচনার জন্য পুরস্কৃত হন। কাব্য মালাঞ্জলি সাহিত্য পুরস্কার এবং কৃষ্টি ও কালচার সাহিত্য পুরস্কারও অর্জন করেছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।