ভৈরবে চাহিদামতো মিলছে না জ্বালানি তেল, দুর্ভোগে চালকরা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে চাহিদামতো মিলছে না ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল। ফলে মোটরবাইকসহ পেট্রোলচালিত বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা তেলের সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চালক ও পাম্প মালিকরা দ্রুত তেলের সংকট নিরসন করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের হয়রানি রোধে পাম্পগুলোতে তদারকি জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষ হতেই মানুষ নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এতে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন পাম্পে ভিড় করছেন বাইকারসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। তবে চাহিদামতো পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল পাচ্ছেন না তারা।
পাম্প মালিকরা জানান, আগে ডিপো থেকে চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ পেতেন। কিন্তু ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।
অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বাস্তবে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় পাম্পগুলোতে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অনেক বাইকার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাইকার ও এনজিও কর্মী নুরে আলম জানান, নরসিংদীর বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও পেট্রোল ও অকটেন পাননি। বাধ্য হয়ে ভৈরবে এসেও চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছেন না।
বাসচালক ফারুক মিয়া বলেন, বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাস চালাতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রয় প্রতিনিধি নাইম মিয়াসহ একাধিক বাইকার জানান, তেলের সংকটে তাদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ভাই ভাই পেট্রোল পাম্পের মালিক মন্নান মিয়া এবং মিন্টু ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জিসান আহমেদ বলেন, রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ পাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। এতে পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, তাই প্রশাসনের উপস্থিতিতে তেল বিতরণ করতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, বাস্তবে তেলের কোনো সংকট নেই। মানুষ অতিরিক্ত তেল মজুত করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। পাম্পগুলো গত বছরের তুলনায় বেশি সরবরাহ পাচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ আজিমুল হক বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট থাকলেও ভৈরবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। যাতে পাম্প মালিকরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারেন এবং গ্রাহকরা ন্যায্য মূল্যে তেল পান।







