বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ ১৪৩২

ভৈরবে চাহিদামতো মিলছে না জ্বালানি তেল, দুর্ভোগে চালকরা

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে চাহিদামতো মিলছে না জ্বালানি তেল, দুর্ভোগে চালকরা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে চাহিদামতো মিলছে না ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল। ফলে মোটরবাইকসহ পেট্রোলচালিত বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা তেলের সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চালক ও পাম্প মালিকরা দ্রুত তেলের সংকট নিরসন করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের হয়রানি রোধে পাম্পগুলোতে তদারকি জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষ হতেই মানুষ নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এতে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন পাম্পে ভিড় করছেন বাইকারসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। তবে চাহিদামতো পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল পাচ্ছেন না তারা।

পাম্প মালিকরা জানান, আগে ডিপো থেকে চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ পেতেন। কিন্তু ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।

অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বাস্তবে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় পাম্পগুলোতে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অনেক বাইকার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাইকার ও এনজিও কর্মী নুরে আলম জানান, নরসিংদীর বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও পেট্রোল ও অকটেন পাননি। বাধ্য হয়ে ভৈরবে এসেও চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছেন না।

বাসচালক ফারুক মিয়া বলেন, বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাস চালাতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রয় প্রতিনিধি নাইম মিয়াসহ একাধিক বাইকার জানান, তেলের সংকটে তাদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ভাই ভাই পেট্রোল পাম্পের মালিক মন্নান মিয়া এবং মিন্টু ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জিসান আহমেদ বলেন, রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ পাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। এতে পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, তাই প্রশাসনের উপস্থিতিতে তেল বিতরণ করতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, বাস্তবে তেলের কোনো সংকট নেই। মানুষ অতিরিক্ত তেল মজুত করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। পাম্পগুলো গত বছরের তুলনায় বেশি সরবরাহ পাচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ আজিমুল হক বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট থাকলেও ভৈরবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। যাতে পাম্প মালিকরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারেন এবং গ্রাহকরা ন্যায্য মূল্যে তেল পান।


প্রথমার্ধেই শেষ খেলা, ভিয়েতনামের কাছে নত বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
প্রথমার্ধেই শেষ খেলা, ভিয়েতনামের কাছে নত বাংলাদেশ

ভিয়েতনামের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিঙ্গাপুরকে মোকাবিলা করার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। তবে বৃহস্পতিবার হ্যানয়ে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দল বুঝিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভিয়েতনাম আর বাংলাদেশের ব্যবধান কতটা।

প্রথমার্ধেই করা তিন গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে স্বাগতিক ভিয়েতনাম। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেলেও তিনটি আক্রমণ ক্রসবার ও পোস্টে লেগে ফিরে যায়।

বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মতো কোনো খেলাই দেখাতে পারেনি। চারটি পরিবর্তন—জামাল ভূঁইয়া, শাহরিয়ার ইমন, বিশ্বনাথ ঘোষ ও সুমন রেজাকে নামিয়েও কোনো সুফল পাননি কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। স্বাগতিকদের গোছানো ফুটবলের বিপরীতে বাংলাদেশের পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি।

এই ম্যাচে ক্যাবরেরা একাদশে ৫ জন প্রবাসী খেলোয়াড় নিয়ে দল সাজান, যা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম। এর আগে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে একসঙ্গে চারজনের বেশি প্রবাসী খেলেননি।

মাঝমাঠে শামিত সোম কিছু নিখুঁত পাস দিলেও আক্রমণভাগ তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। হামজা দেওয়ান চৌধুরী শেষদিকে রক্ষণ ছেড়ে আক্রমণে উঠে এলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। তার একটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনাম ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে কর্নার থেকে প্রথম গোলটি আসে। দো হোয়াংয়ের শট বাংলাদেশের খেলোয়াড় জায়ান আহমেদের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।

১৮ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুয়ান মান। ৩৮ মিনিটে হাইলং দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশের পক্ষে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের একটি ভলি ভিয়েতনামের গোলরক্ষক রক্ষা করেন। এছাড়া সোহেল রানার একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

আগামীকাল (শুক্রবার) ভিয়েতনাম থেকে সিঙ্গাপুরে যাবে বাংলাদেশ দল। ৩১ মার্চ স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই মিশন শেষ করবে তারা। যদিও বাংলাদেশ আগেই বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে, ফলে ম্যাচটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।

কোচ ক্যাবরেরার লক্ষ্য সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলে মিশন শেষ করা। তবে ভিয়েতনামের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেকটাই কমে গেছে।


হোসেনপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে কুড়িঘাট বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী-মাসনাদ, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রেসক্লাব, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর উপজেলা পরিষদ মাঠে পুলিশ, আনসার ও স্কাউট দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও মার্চপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

দিনব্যাপী আরও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

হোসেনপুরে অষ্টমী স্নানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থীর মিলনমেলা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে অষ্টমী স্নানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থীর মিলনমেলা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানোৎসব।

স্থানীয় পুরোহিতদের ভাষ্যমতে, এবারের স্নানোৎসবের মহাষ্টমী তিথির লগ্ন শুরু হয় গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে এবং শেষ হয় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে।

হোসেনপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত খুরশিদ মহল সেতু সংলগ্ন স্থানে এ অষ্টমী স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাট, কাচারী বাজার, উপজেলা পরিষদ মাঠ, রামপুর বাজার ও কুলেশ্বরী বাড়ি দেবালয়সহ বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, এবার কয়েক লক্ষাধিক নারী-পুরুষের সমাগম হয়েছে।

অষ্টমী স্নানোৎসব উপলক্ষে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিনের উদ্যোগে পুণ্যার্থীদের মাঝে খাবার পানি, ফল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক প্রদীপ কুমার সরকার, হোসেনপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমল চন্দ্র দেব এবং বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ও সাংবাদিক সঞ্জিত চন্দ্র শীল জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে উৎসবটি নির্বিঘ্নে পালন করেছেন। স্বাধীনতা দিবসের আমেজে উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

তারা আরও জানান, স্নানোৎসব ও মেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা জানান, স্নানঘাটটি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার অধীনে হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোসেনপুর প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, অষ্টমী স্নানোৎসব উপলক্ষে হোসেনপুর ও পাগলা থানার পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ফলে উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অষ্টমী স্নানোৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পেরেছেন।