ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে হোসেনপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, পাশে নেই কৃষি অফিস
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে মাঠের পর মাঠ উঠতি ফসল ও ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিদলা ইউনিয়নের কৃষকরা। তবে প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের পরও এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজ নিতে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত কয়েক দিন ধরে রাতের প্রবল ঝড়ে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান, ভুট্টা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবল বাতাসে বোরো ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের শীষ ঝরে গেছে। এছাড়া ঝড়ে ভুট্টা ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি যেমন ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও করলার মাচা ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ায় আম ও লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় বাগান মালিকরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের টান সিদলা, নামা সিদলা, মেচেরা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কৃষক কামরুল ইসলাম, নূর উদ্দিন, জসিম পাটান, গোলাপ পাটান, আলমগীর, আবুল হোসেন, আজিজুল, সাঈদুল ইসলাম, জলিল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, ফারুক, কামাল, সোহেল, ওয়াহিদ, বাদল, খোকন, আমিনুল, নজরুল ইসলাম, হজরত আলীসহ অনেকে জানান, ধার-দেনা করে কঠোর পরিশ্রমে ফসল ফলালেও এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে।
একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারের মুখে কী তুলে দেব, তা জানি না। অথচ সারাদিন পার হয়ে গেলেও কৃষি অফিসের কেউ আমাদের সান্ত্বনা দিতে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে আসেননি।”
এদিকে সিদলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ও নজরুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ মিয়া এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মধু কিস্তিসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে উপস্থিত থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার কথা থাকলেও হোসেনপুরে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা যখন দিশেহারা হয়ে সরকারি সহায়তার আশায় রয়েছেন, তখন কৃষি অফিসের এমন নীরবতা ও দায়িত্বহীনতাকে চরম উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকার ও কৃষি বিভাগ যেন সরেজমিনে তদন্ত করে তাদের পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।




