কিশোরগঞ্জে কিশোরী অপহরণ: র্যাবের অভিযানে উদ্ধার, চক্রের সদস্য আটক
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মাদ্রাসাপড়ুয়া এক কিশোরীকে অপহরণের ঘটনায় ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একই সঙ্গে অপহরণ ও পুলিশের কাজে বাধা প্রদান, হামলা ও হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি সৌরভ (২১)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে (ভিকটিম) মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত সৌরভ উত্যক্ত করত। বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের পরিবার অভিযুক্তের অভিভাবককে অবহিত করলে কোনো সমাধান না হয়ে উল্টো অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ভিকটিম তার মায়ের সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত সৌরভ ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন তাদের পথরোধ করে। এ সময় ভিকটিমের মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে ভিকটিমকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করা হয়।
ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে অষ্টগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় একটি মামলা (নং-০১, তারিখ: ০২ মার্চ ২০২৬) রুজু করা হয়।
মামলা রুজুর পর ভিকটিম উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ ইটনা উপজেলার চৌগাঙ্গা ইউনিয়নের কমলভোগ এলাকায় অভিযান চালায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ইটনা থানায় পৃথক একটি মামলা (নং-০৬, তারিখ: ০৭ মার্চ ২০২৬) দায়ের করে, যেখানে দণ্ডবিধির ১৪৩/২২৪/৩৩৩/৩৫৩/৩৫৪/১৮৬/৩০৭/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ভিকটিম উদ্ধারসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা জোরদার করে।
এরই অংশ হিসেবে গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। অভিযানে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয় এবং মামলার অন্যতম আসামি সৌরভকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




