রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

হাওরে সড়ক দূর্ঘটনাঃ এক মুহূর্তেই নিভে গেল একটি পরিবার

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওরে সড়ক দূর্ঘটনাঃ এক মুহূর্তেই নিভে গেল একটি পরিবার

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের একমাত্র শিশু সন্তান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের মিঠামইন উপজেলার ভাতশালা সেতু সংলগ্ন কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মিঠামইন উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) এবং তাদের ছেলে আয়ান (৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মনির হোসেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা চালবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর পিকআপটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হন উপস্থিত লোকজন।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চালবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এদিকে, একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ মো. সবুজ (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় ঈসাখাঁ ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জের ‘ক’ সার্কেলের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. সবুজ ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার আকুয়া (মড়লপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আসলাম এবং মায়ের নাম নূরজাহান।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভা। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়াসিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পীযুষ কান্তি ঘোষ এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাই সচেতন হলে মশার প্রজননস্থল কমানো এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কুলিয়ারচরকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

হোসেনপুরে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর যুবকের ৭৭ হাড় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর যুবকের ৭৭ হাড় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর আরিফুল ইসলাম সালমান (২১) নামের এক যুবকের কঙ্কালের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নরসুন্দা নদী থেকে উদ্ধার করা এসব অংশের মধ্যে মাথার খুলি ও বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য ড্যান্ডি সেবনের সময় কথা-কাটাকাটির জেরে সালমানকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে নরসুন্দা নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

নিহত সালমান হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাশের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব মিয়া (১৮) ও মাফি মিয়া (১৫), একই গ্রামের মৃত মোতালেবের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ইলিম পর্দানীর বাজারের উদ্দেশে বের হন সালমান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সালমানের নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তির সহায়তায় সালমান ও তাঁর বন্ধুদের মুঠোফোনের কথোপকথন এবং গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে গত ১৫ অক্টোবর ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুরের চৌকিদার বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য ড্যান্ডি সেবনের সময় সালমানের সঙ্গে তাঁর সহযোগীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে বন্ধু মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যরা তাঁর কাছ থেকে বাঁশ কেড়ে নিয়ে সালমানকে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে নরসুন্দা নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার বিকেলে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বাসুরচর গ্রামের সীমান্তবর্তী হাতিমের স্কুলের পাশের নরসুন্দা নদী থেকে সালমানের কঙ্কালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে ছিল মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় এবং তাঁর ব্যবহৃত একটি গেঞ্জি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে গেঞ্জিটি দেখে কঙ্কালের অংশগুলো সালমানের বলে শনাক্ত করেন তাঁর মা সালমা বেগম। পরে উদ্ধার করা হাড়ের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য হাড়গুলো সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত সরকার এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া উপস্থিত ছিলেন।