মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাওরে সড়ক দূর্ঘটনাঃ এক মুহূর্তেই নিভে গেল একটি পরিবার

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওরে সড়ক দূর্ঘটনাঃ এক মুহূর্তেই নিভে গেল একটি পরিবার

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের একমাত্র শিশু সন্তান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের মিঠামইন উপজেলার ভাতশালা সেতু সংলগ্ন কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মিঠামইন উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) এবং তাদের ছেলে আয়ান (৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মনির হোসেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা চালবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর পিকআপটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হন উপস্থিত লোকজন।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চালবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এদিকে, একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. মহরম আলী (৬০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কটিয়াদী থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাতাঘাট ইউনিয়নের গুরুপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৈত্রিক বসতভিটা ও জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩০) উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মহরম আলী সম্পর্কে তার আপন চাচা।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন আনোয়ার হোসেন নিজ বসতঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মহরম আলী ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আনোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফেলে রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে না পারে, সে জন্য হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কটিয়াদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা খাতুন বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়। মামলা নম্বর-১৮; তারিখ: ১৬ মে ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩০২/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় কটিয়াদী থানার এসআই মো. রতন মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।

অভিযানের একপর্যায়ে গত ২৩ মে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার গুরুপাড়া গ্রামে বাতাঘাট ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মহরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহরম আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

এদিকে বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সকল ধরনের অপরাধ দমনে সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

বিন্নাটীতে সিএনজি-পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
বিন্নাটীতে সিএনজি-পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৫

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটী ইউনিয়নের কামালিয়াচর এলাকায় ঢাকা-ভৈরব মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে কামালিয়াচর মসজিদের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে সিএনজি চালকসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং পলাতক পিকআপ চালককে শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বাজিতপুরে র‍্যাবের অভিযানে ১১৬ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে র‍্যাবের অভিযানে ১১৬ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় র‍্যাব-১৪-এর অভিযানে ১১৬ কেজি গাঁজাসহ জাকির হোসেন (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বেজাগাঁও এলাকায় তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

র‍্যাব সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী কসবা এলাকা থেকে একটি বড় গাঁজার চালান বাজিতপুরে আনা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি তপন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল সবজি বিক্রেতা ও হকারের ছদ্মবেশে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়।

পরবর্তীতে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে জাকির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাকে আটক করা হলে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের একটি দোকানঘরের পেছনে শুকনো লতা-পাতার নিচে লুকিয়ে রাখা পাঁচটি বস্তা থেকে ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক জাকির হোসেন বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বেজাগাঁও গ্রামের বদর আলীর ছেলে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সিনিয়র এএসপি তপন সরকার সাংবাদিকদের জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত আলামত বাজিতপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবার নিয়ে উদ্বেগ ছিল। র‍্যাবের এ অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।