মৃত ভেবে হয়েছিল হত্যা মামলা, দুই বছর পর জীবিত উদ্ধার যুবক
যাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল, সেই ‘নিখোঁজ’ যুবককে প্রায় দুই বছর পর জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় চার মাস কারাভোগ করা বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তি ও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মোস্তফা কামাল (২৮)। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। গত ৯ জুলাই রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকা থেকে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মোস্তফা কামাল নিখোঁজ হন। এরপর তাঁর মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোস্তফা কামালের সঙ্গে জামান মিয়ার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার পর পুলিশ জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বিভিন্ন তথ্য নিয়ে পুলিশের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, মোস্তফা কামাল জীবিত অবস্থায় গাজীপুরে অবস্থান করছেন।
তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই রাতে গাজীপুরের ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সেখানে পরিচয় গোপন করে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিয়ে করেছেন এবং নতুন সংসারও গড়েছেন।
উদ্ধারের পরদিন, ১০ জুলাই কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলামের আদালতে মোস্তফা কামালের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হক।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “তদন্তের সূত্র ধরে গাজীপুর থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাঁর আত্মগোপনের বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু তাঁরা দুই বছরেও পুলিশকে বিষয়টি জানাননি।”
তবে পুলিশের এই প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে মোস্তফা কামাল বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও তাঁরা রাজি হননি।
এদিকে মিথ্যা মামলায় কারাভোগের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঠিকাদার জামান মিয়া। তিনি বলেন, “কোনো অপরাধ না করেও আমাকে চার মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। এতে আমার ব্যবসা ও সামাজিক সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে যদি প্রমাণিত হয় যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করেছেন বা তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই বছর আগে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে যে মামলাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, সেই মামলার ‘নিহত’ হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় কুলিয়ারচরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array