শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ভৈরবে স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে ভাঙা সড়ক মেরামতে নেমেছেন এলাকাবাসী

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে ভাঙা সড়ক মেরামতে নেমেছেন এলাকাবাসী

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকায় জনদুর্ভোগ কমাতে শনিবার (১১ জুলাই) থেকে সংস্কারকাজ শুরু করেন তাঁরা।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভৈরব পৌর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের চন্ডিবেড়-কালিপুর সংযোগ সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ চন্ডিবেড়-কালিপুর সংযোগ সড়কটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ সড়ক দিয়ে দুটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ ভৈরব বাজার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সম্প্রতি এক প্রসূতি নারী এ সড়ক দিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে যানবাহনের অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন এবং পথেই তাঁর সন্তান জন্ম নেয়। ঘটনাটি সড়কের দুরবস্থার একটি করুণ চিত্র তুলে ধরে।

এলাকাবাসী জানান, সড়কটির উন্নয়নকাজের জন্য টেন্ডার হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেনি। বর্ষার বৃষ্টিতে সড়কটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব অর্থ সংগ্রহ করে এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাবিশ, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলযোগ্য করার উদ্যোগ নেন। শনিবার থেকে তাঁরা রোলার দিয়ে সড়ক সমতলকরণসহ সংস্কারকাজ শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে সড়কটি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশের ড্রেন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি উপচে আশপাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

তাঁদের দাবি, সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত সংকীর্ণ। এক পাশে ড্রেন থাকলেও অন্য পাশে কোনো ড্রেন নেই। ফলে দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি অপর পাশে একটি নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, “কালিপুরবাসী অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়ে নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। সড়কটিতে আরও কিছু উন্নয়নকাজ প্রয়োজন। পৌরসভার পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে, যাতে অন্তত সাময়িকভাবে এটি চলাচলের উপযোগী করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “এটি অত্যন্ত ব্যস্ত একটি সড়ক। প্রতিনিয়ত অসংখ্য যানবাহন এ পথে চলাচল করে। শুধু এই সড়ক নয়, পাশের কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ এবং বিল এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করা হবে।”

স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ততদিন পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগে শুরু করা এই সংস্কারকাজ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমাবে।

কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, তিনি যেন শিগগিরই সুস্থ হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন।

এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, সহসভাপতি লুৎফুর হক টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বলসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আসাদুজ্জামান মুকুল। পরে মাওলানা আবু সাইদ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

হোসেনপুরের শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত তার ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তিনি ফাতেমা তুজ জোহরাকে উপযুক্ত সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা-পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে ফাতেমা তুজ জোহরার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। আপনার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। এখন আপনার ছোট ছেলের চিকিৎসা এবং আপনার পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আপনি একা নন।”

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “স্বামী-সন্তান হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তারেক রহমান স্যার পাশে না দাঁড়ালে আমার ছেলের চিকিৎসা করাতে পারতাম না।”

জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম সোহরাব ও ফাতেমা তুজ জোহরা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামে। দুই ছেলেকে নিয়ে ছিল তাঁদের সংসার। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দুই সন্তানকে ঢাকায় লেখাপড়া করাচ্ছিলেন তারা।

বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট আন্দোলন-পরবর্তী একটি বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তার মৃত্যু হয়। ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি বর্শিকুড়া গ্রামে দাফন করা হয়।

আব্দুল্লাহর মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর কয়েক মাসের ব্যবধানে মারা যান তাদের বাবা জাহিদুল ইসলাম সোহরাব।

পরপর তিনটি বড় সংকটে পরিবারটি গভীর আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে পড়ে। ক্যান্সার আক্রান্ত জিসানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।

পরিবারের দাবি, সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান তাদের পাশে দাঁড়ান। তৎকালীন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা শুরু হয়।

পরিবারটির দাবি অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকাল থেকেই তারেক রহমান নিয়মিত জিসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করে আসছেন। বর্তমানেও সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ফাতেমা তুজ জোহরার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুই দিন পানির নিচে বীজতলা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়াল কৃষক

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
দুই দিন পানির নিচে বীজতলা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়াল কৃষক

টানা ভারী বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফাইপুটা বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে শতাধিক কৃষকের ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথে স্থানীয় কয়েকজনের বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ পুমদী গ্রামের বারিক মাস্টারের বাড়ি-সংলগ্ন ফাইপুটা বিলে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়। বিলের পানি বের হওয়ার একমাত্র পথটি কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে হওয়ায় তারা পানি চলাচলে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ফলে জমে থাকা পানি নামতে না পেরে পুরো এলাকার বীজতলা টানা দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দক্ষিণ পুমদী এলাকার শতাধিক কৃষকের আমন ধানের রোপণ উপযোগী বীজতলা এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও এক দিন পানি জমে থাকলে পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে যেত। এতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে চলতি মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পানি নিষ্কাশনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডেকে সতর্ক করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনস্বার্থে পানি নিষ্কাশনে কোনো ধরনের বাধা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনওর নির্দেশনার পরপরই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে দ্রুত বিলের পানি কমতে শুরু করে এবং ডুবে থাকা বীজতলা থেকে পানি নেমে যেতে থাকে। এতে স্বস্তি ফিরে আসে দক্ষিণ পুমদীর শতাধিক কৃষকের মধ্যে।

স্থানীয় কৃষক রাব্বি মিয়া বলেন, “দুই দিন ধরে চোখের পানি ফেলছিলাম। পানি না নামলে সব শেষ হয়ে যেত। ইউএনও স্যার এসে নির্দেশ দেওয়ার পর এখন পানি নামছে। আমরা অনেকটা বাঁচলাম।”

আরেক কৃষক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। একটি বীজতলা নষ্ট হলে পুরো মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ইউএনও স্যার সময়মতো না এলে আমরা বড় বিপদে পড়তাম।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “কৃষকের ফসল রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। জনস্বার্থের কাজে কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্যোগের সময় সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে পুমদী, সিদলা ও জিনারী ইউনিয়নের নিচু এলাকার কিছু ধানের বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দক্ষিণ পুমদীর ঘটনায় ইউএনওর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41