দ্বীপেশ্বরে সড়কের বেহাল দশায় নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, ইউএনওর নির্দেশে শুরু মেরামত
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া আঞ্চলিক সড়কের পৌর এলাকার দ্বীপেশ্বর অংশে প্রায় ৩০ ফুটজুড়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনার পর পৌর প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে গর্ত ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি হোসেনপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুলেশ্বরবাড়ী-সংলগ্ন দ্বীপেশ্বর এলাকায় অবস্থিত। হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া আঞ্চলিক সড়কটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বাসকান্দা থেকে ঢাকার মহাখালীগামী ‘জলসিঁড়ি পরিবহন’-এর বাসসহ বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওই অংশে বড় গর্ত থাকলেও কার্যকর সংস্কার হয়নি। বর্ষা মৌসুমে গর্তে পানি জমে থাকায় এর গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে প্রায়ই অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাকুন্দিয়ার তারাকান্দি বাজার থেকে সবজি কিনে বাসকান্দায় ফেরার পথে ব্যবসায়ী আমিন মিয়ার বহনকারী একটি অটোরিকশা গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে চালক মোখলেছুর রহমান গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়কের এ অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাঁরা জানান, বর্তমানে এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চললেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাহাব উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন, মো. সুবল মিয়া ও সৃজন মিয়া বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বড় গর্তের কারণে ইতোমধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখনো স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকার এ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পৌরসভার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা উপজেলা প্রকৌশলী, পৌর প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও বলেন, “গর্তটি এক দিনে সৃষ্টি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি প্রকৌশলীদের নিয়ে পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমাতে আপাতত গর্তটি দ্রুত ভরাট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
ইউএনওর নির্দেশনার পরপরই পৌর প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে গর্ত ভরাটের কাজ শুরু হয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে একই সমস্যা এড়াতে পুরো সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, বর্ষা মৌসুমে গর্তটির আকার আরও বড় হচ্ছে এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তাই সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত স্থায়ী সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array