মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২

৪২ জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: তৃণমূলে সুশাসন ও উন্নয়নে জোর

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
৪২ জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: তৃণমূলে সুশাসন ও উন্নয়নে জোর

নবনিযুক্ত ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৫ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

রাত পৌনে ১০ টায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় সরকার কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণমূলক কাজে কোনো ধরনের স্থবিরতা বরদাশত করা হবে না এবং সকল উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও এতে অংশ নেন।

এদিকে বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খাঁন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে জেলা পরিষদকে একটি গতিশীল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ে হাইব্রিড ক্লাসের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ে হাইব্রিড ক্লাসের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ও আংশিক সশরীরে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং বাকি তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়া হবে।

এর আগে একই দিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে স্কুলপর্যায়ে অনলাইন ও সশরীর ক্লাসের সমন্বয়ে পাঠদান চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, “সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইন ক্লাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়েও আলোকপাত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচির দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বছরের শেষ নাগাদ পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করলেও পাবলিক পরীক্ষাগুলো পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই সমস্যাগুলো নিরসনে শিক্ষা ব্যবস্থায় সময়োপযোগী সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

দেশের ১৪টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। তারা জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা প্রাপ্য হবেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা হলেন—ঢাকায় মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ, গাজীপুরে চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, ফেনীতে অধ্যাপক এম এ খালেক, ফরিদপুরে মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, নীলফামারীতে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, লালমনিরহাটে এ কে এম মমিনুল হক, পাবনায় মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম, নড়াইলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, বরগুনায় মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, জামালপুরে মো. সিরাজুল হক, মানিকগঞ্জে জামিলুর রশিদ খান, নরসিংদীতে তোফাজ্জল হোসেন, হবিগঞ্জে আহমেদ আলী এবং চাঁদপুরে এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ফুলপুরে ‘সহজ কার্ড’ প্রতারণা: ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

জাকির হোসাইন রাজু প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফুলপুরে ‘সহজ কার্ড’ প্রতারণা: ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ‘সহজ কার্ড’ বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণা করায় এক ডিলারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) বালিয়া সুলতানের মোড় এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ডিলার মোঃ সারোয়ার (পিতা: মৃত আবুল কালাম) ১০০ টাকার বিনিময়ে স্থানীয়দের কাছে প্রতিটি ‘সহজ কার্ড’ বিক্রি করছিলেন। কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রাহককে ১,০০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে গ্রাহকদের হাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হতো।

ঘটনাটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। তদন্তে প্রতারণার অভিযোগটি হাতেনাতে প্রমাণিত হয়। এ সময় অভিযুক্ত সারোয়ারকে আটক করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্ত সারোয়ার শেরপুরের রামপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সরবরাহ করার দায়ে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত অবৈধ পণ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনমনে স্বস্তির বাতাস ফিরে এসেছে।