কিশোরগঞ্জে বিশ্ব জলাভূমি দিবস- ২০২৬ উদযাপন: সুরমা জলমহাল সংরক্ষিত ঘোষণার দাবি
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) কিশোরগঞ্জ হাওরের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে বিশ্ব জলাভূমি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিলো জলাভূমি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন।
দিবসটি উপযাপন উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের দীনেশ পুর গ্রামে সুরমা নদীর পাড়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন উত্তর দীনেশপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ “সুরমা বিলবাসীর বংশ পরম্পরা অভিজ্ঞতা ও জীবন চর্চার আলাপ” শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বেসরকারী সংগঠন পরিবেশ ঐক্যের কারিগরী সহযোগিতায় ও ধনু ইকো ট্যুরিজমের অংশীদারিত্বে এই কর্মসূচিতে সুরমা তীরবর্তী বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ ও শিশু সহ স্থানীয় মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
সুরমা তীরের প্রবীণ মৎস্যজীবি বাসিন্দারা জানান, হাওরের প্রাকৃতিক মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে খ্যাত সুরমা এখন মাছশূন্য হতে চলেছে। দেশীয় প্রজাতির অনেক সাধারণ মাছও আর নেই বললে চলে। গত কয়েক বছরে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার এতটাই কমে এসেছে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মৎস্যচাষীরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।
তারা বলেন, একসময় এই সুরমা পানকৌড়ি, বালিহাঁস, বক, শামুকখোলের পাখায় ঢেকে যেতো। প্রচুর কচ্ছপও পাওয়া যেতো । এখন নামমাত্র কিছু পাখি অবশিষ্ট আছে, পরিযায়ী পাখিও আসেনা খুব একটা।
পলি প্রবাহের কারণে নাব্যতা হ্রাস, পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণ না করার পাশাপাশি ফসলের জমিতে কীটনাশক ও বেআইনি মাছ শিকারের জালকে সুরমার বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। এমনটি চলতে থাকলে, আগামী কয়েক বছরে মাছ ও পাখি শূণ্য হওয়ার আশংকা রয়েছে। সুরমার এ বিপর্যয় কেবল পরিবেশ বিপর্যয়ই না, এতে করে নিজেদের ভবিষ্যত কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যগণ।
আলাপের শেষে, জীবন জীবিকার স্বার্থে সুরমা বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রতিবেশ পুনুরুদ্ধারে গ্রামবাসী ও মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সেইসাথে, অনতিবিলম্বে সুরমা বিলকে সংরক্ষিত ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সরকারের উর্ধতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি আবেদন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।












