কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির ফজলুর রহমান
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) সংসদীয় আসনের মোট ১৪২টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে বেসরকারিভাবে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শরীফুল আলম বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, মো. শরীফুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫৫৫ ভোট।
ফলাফলে দেখা যায়, মো. শরীফুল আলম ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। ভোট গণনার শুরু থেকেই তিনি একাধিক কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সব কেন্দ্রের ফলাফল যুক্ত হয়ে বড় ব্যবধানে তাঁর বিজয় নিশ্চিত হয়।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ৯৫ বছর বয়সী অসুস্থ নারী মনোয়ারা বেগম নাতির সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে এসে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি কতদিন বাঁচব জানি না, কিন্তু খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী দেখে মরতে চাই। জীবনের শেষ সময়ে নিজের পছন্দের দলের পক্ষে ভোট দিতে পেরে শান্তি পেয়েছি।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মনোয়ারা বেগম। সরেজমিনে দেখা যায়, নাতি সুমনের সঙ্গে অটোরিকশায় করে ভোটকেন্দ্রে আসেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মীরা তাকে ভেতরে নিয়ে যান এবং নিজের ভোট নিজেই প্রদান করেন।
মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি। অসুস্থ থাকলেও নাতির সঙ্গে ধানের শীষে ভোট দিতে এসেছি। আমাদের পরিবারের সবাই বিএনপিকে ভালোবাসে। আমরা সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়েছি।”
তার নাতি সুমন জানান, “দাদী এক সপ্তাহ ধরে আমাকে বলছিল ভোটের দিন তাকে কেন্দ্রে নিয়ে যেতে। প্রথমে অসুস্থতার কারণে আমরা রাজি হইনি, কিন্তু তাঁর প্রবল ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত আমাদের সবাইকে নত হতে হলো। পরে অটোরিকশায় ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসি। আমাদের পরিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতির প্রতি দীর্ঘদিন ধরে আনুগত্যশীল।”
জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রিজওয়ানুল হক বলেন, “ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা ও সচেতনতা থেকেই বয়োবৃদ্ধ এই নারী নাতির সহায়তায় ভোট দিতে এসেছেন। তিনি নিজ হাতে ভোট প্রদান করেছেন, যা ভোটার সচেতনতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”