শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

জকসু নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ: দুই প্রার্থীকে নোটিশ

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জকসু নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ: দুই প্রার্থীকে নোটিশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কোবরা এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকরিম আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে তাদের উভয়কে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২৩ নভেম্বর ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মীর নূর নবীর চিকিৎসার জন্য আয়োজিত চ্যারিটি কনসার্টের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে আপনারা অনুমতিপত্রের ৩ নম্বর শর্ত ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি কনসার্টের মঞ্চে প্রকাশ্যে অর্থ অনুদানের ঘোষণা দেওয়ায় জকসু নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর বিধি নং ৫(গ) লঙ্ঘিত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদসমূহের গঠন ও পরিচালনা বিধিমালা ২০২৫ এবং জকসু নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী আপনাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই চ্যারিটি কনসার্টে খাদিজাতুল কোবরা মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন এবং ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেন। একইভাবে তাকরিম আহমেদ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণার কথা বলেন। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন।

ফিন্যান্স বিভাগের ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষার্থী মীর নূর নবীর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চ্যারিটি কনসার্টটির আয়োজন করা হয়। কনসার্টের অনুমতিপত্রে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল—
মঞ্চে কোনো স্বতন্ত্র বা প্যানেলের প্রার্থী উপস্থিত থাকতে পারবে না।

মঞ্চে উঠে খাদিজাতুল কোবরা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি ৫০ হাজার টাকা ফান্ড রেইজ করেছি। আপনারা সবাই আমাকে দোয়ায় রাখবেন, যাতে ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে থাকতে পারি।”

তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের উদ্যোগে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইকপাড়া হোসাইনিয়া বাবুলউলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে দুই শতাধিক নারী–পুরুষ মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্মরোগ, গাইনি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে। যারা সময়মতো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তারা আজ সুবিধা পেয়েছেন।’
চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা বেগম বলেন, ‘হৃদরোগের পরীক্ষা করতে আগে দূরে যেতে হতো। আজ ক্যাম্পে এসে চেকআপ করিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।’

হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন চর্মরোগে ভুগছিলেন। ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময় নিয়ে পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হত। আজ একদম বিনা খরচে সেবা পেয়েছি।’

ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন সুমন, তাড়াইল উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, দিগদাইড় ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল, ধলা ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাড়াইল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম।

‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী বলেছেন, “দেশজুড়ে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ এবং হোসেনপুরও এর বাইরে নয়। এমপি থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার দেখা যায়। এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাদী এ মন্তব্য করেন।

সভায় জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মোকাররম হুসাইনের সভাপতিত্ব এবং সহসভাপতি মুহাম্মদ মুযাক্কির হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।


মাসুদ হিলালীর বাসায় সাক্ষাৎ করতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মাজহারুল ইসলামকে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ
মাসুদ হিলালীর বাসায় সাক্ষাৎ করতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মাজহারুল ইসলামকে

সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মাসুদ হিলালীর বাসায় সাক্ষাৎ করতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মাজহারুল ইসলামকে। কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সুপরিচিত মুখ এই প্রবীণ নেতা ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার(৪ ডিসেম্বর) বিকালে আচমকা ঘোষিত বিএনপি’র ৩৬ মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর তালিকায় কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মনোনীত হন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। সন্ধ্যায় তিনি প্রবীণ এই নেতার সঙ্গে দেখা করতে শোলাকিয়ার তার বাসায় গেলে দরজায় পৌঁছানোর পরই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয়—দেশনেত্রীর অসুস্থতার সময় হঠাৎ মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা এবং কিশোরগঞ্জে মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন নিয়ে এ প্রবীণ নেতার মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধি শোলাকিয়ার স্থানীয় এক মহিলাকে বলতে শুনেছেন—“মাজহার সাহেব আজকে লোক দেখাতে এই সাক্ষাৎ নাটক করতে আসছে।”

কিন্তু কেন?

এর উত্তরের জন্য কয়েক মাস পেছনে যেতে হয়। গত সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ ৯ বছর পর বিএনপির জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসন পতনের পর দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে—তৃণমূল কমিটি গঠনে পক্ষপাতিত্ব, কাউন্সিলে নিজের পছন্দের লোকদের অগ্রাধিকার দেওয়া ইত্যাদি।

সবশেষে কাউন্সিলের দিন সবচেয়ে বড় অভিযোগ প্রকাশ পায়—এত বড় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত এবং মহাসচিব উপস্থিত থাকলেও জেলার অনেক সিনিয়র নেতা আমন্ত্রণই পাননি। যাদের মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের অগ্রজ নেতা জনাব মাসুদ হিলালী অতিথি হিসেবেও আমন্ত্রণ পাননি। সাংগঠনিকভাবে অদক্ষতার অভিযোগের মধ্যেই তিনি তার পূর্ববর্তী নেতৃত্বের কথা বলে কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হন—যা আওয়ামী আমলে তার কার্যক্রমকে ঘিরে অনেকের প্রশ্নের জন্ম দেয়।

জনাব মাসুদ হিলালীর এলাকার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে, ২০০১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান—যখন সারাদেশে বিএনপির জোয়ার, তখন জনাব মাজহারুল ইসলাম নৌকার ব্যাজ পরে সৈয়দ আশরাফের পক্ষে নির্বাচন করেন এবং মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ হিলালী পরাজিত হন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতিক্রিয়াতেও অসন্তোষ স্পষ্ট। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্যতম কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও জজ জনাব রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ অনেকে মনে করেন—আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময়ে হঠাৎ করে মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা দলের ভেতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পরিকল্পিত চেষ্টা। একই সঙ্গে তৃণমূলে অজনপ্রিয় মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন কিশোরগঞ্জে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সবাই দেশমাতার অসুস্থতার এই সময়ে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে, ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে আহ্বান জানান। কারণ—দেশের এই কঠিন সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা সবার আগে।