সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ-০১: বিএনপির মনোনয়নবিরোধী মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

শাহীন আলম প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-০১: বিএনপির মনোনয়নবিরোধী মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জ-০১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি চৌরাস্তা মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিন্নাটি, মারিয়া ও চৌদ্দশত—এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে আয়োজিত মানববন্ধনে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

কর্মসূচিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব মাসুদ হিলালী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল), জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক জজ রেজাউল করীম খান চুন্নু এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন।

মানববন্ধন চলাকালে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সড়কের মোড়ে অবস্থান নেন। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরী সেবায় নিয়োজিত প্রয়োজনীয় যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা কিশোরগঞ্জ জেলাকে দ্বিখণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে শরীফুল আলমকে আখ্যায়িত করে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। এ সময় আন্দোলনকারীদের অনেকে সড়কের মাঝে কাগজ বিছিয়ে বসে এবং কেউ কেউ শুয়ে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর ঘোষিত বিএনপির দ্বিতীয় দফা মনোনয়ন তালিকায় কিশোরগঞ্জ-০১ আসনে মাজহারুল ইসলামের নাম প্রকাশ হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁদের অভিযোগ, তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে থেকেও বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন। এছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে বেআইনি কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

নেতাকর্মীদের আরও দাবি, পূর্ববর্তী নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। এমন একজন অজনপ্রিয় নেতাকে শরীফুল আলমের লবিং ও অর্থের জোরে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ভোটারের এই আসন তাঁর মাধ্যমে রক্ষা করা অসম্ভব বলেও মত দেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনের অনুরোধে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অষ্টগ্রামে নদীভাঙন প্রতিরোধে এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে শুরু ড্রেজিং কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে নদীভাঙন প্রতিরোধে এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে শুরু ড্রেজিং কার্যক্রম
  • কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে নোয়াগাঁও গ্রাম ও বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক রক্ষায় মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উদ্যোগে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কটি ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সড়কটির পুনঃসংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সংস্কারকাজ চলাকালে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে লাওড়া ও নোয়াগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নোয়াগাঁও গ্রামও হুমকির মুখে পড়ে।
    এ মাসের শুরুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক রক্ষায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষ্যে শনিবার (২৩ মে) দুপুর থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়।
    বাঙালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোর্শেদ-ই কামাল বলেন, বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে সড়কভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন করেই কেবল ভাঙন রোধ সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
    উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, ড্রেজিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক এবং আশপাশের কৃষিজমি নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে।
    এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, “নদীভাঙন সমস্যার সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হাওরবাসীর সব সমস্যা সমাধানে আমি অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

 

জেলা পরিষদ প্রশাসকের খামারে চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের খামারে চুরি

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের মালিকানাধীন ‘কিশোরগঞ্জ এগ্রো বেইজ ফার্ম লিমিটেড’-এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকার কিছু বখাটে, নেশাগ্রস্ত ও উশৃঙ্খল যুবকদের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খামারটির তত্ত্বাবধায়ক মো. আ. মতিন মিয়া গত ২৩ মে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এ অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি বেরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে খামারটির দেখভালের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ মে সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে মতিন মিয়া নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন ২৩ মে ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে খামারে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, খামারের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক তার, সেচ মটরের তারসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি হয়ে গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও খামারটিতে একাধিকবার ধাপে ধাপে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে- বৈদ্যুতিক তার ও সেচ মটরের তার, চারটি ব্যাটারি যার মধ্যে দুটি সোলার ব্যাটারি এবং চারটি সেচ মটর। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
খামারটিতে নৈশপ্রহরী থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেন, দিনের বেলায় এলাকার কিছু বখাটে, নেশাগ্রস্ত ও উশৃঙ্খল যুবককে খামারের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা মাঝে মধ্যে খামারের ভেতরে প্রবেশ করে ফল-ফলাদি সংগ্রহ করেও খেয়ে থাকে। এসব কারণে তাদের অথবা তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ভিজিএফ (VGF) খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রম আগামী ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এবারের কর্মসূচিতে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭ হাজার তালিকাভুক্ত পরিবারকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, হোসেনপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম এরশাদ, ৩ নম্বর গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক হোসেন মেম্বারসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, ঈদের আগে এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।