বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

না ফেরার দেশে কুলিয়ারচরের জননন্দিত নেতা নুরুল মিল্লাত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
না ফেরার দেশে কুলিয়ারচরের জননন্দিত নেতা নুরুল মিল্লাত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র জননেতা নূরুল মিল্লাত আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে দ্রুত বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে কুলিয়ারচর উপজেলা ও পৌর এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য, একজন সৎ, জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাকে হারিয়ে এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

তার মৃত্যুতে কুলিয়ারচর উপজেলা ও পৌর বিএনপি তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল আয়োজন।

শুক্রবার বাদ আছর কুলিয়ারচর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে।

নূরুল মিল্লাত ১৯৫১ সালে কুলিয়ারচর পৌর এলাকার খরকমারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী আবুল কারাহ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ।

তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। ১৯৭৭ সালে কুলিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং টানা চারবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং সরকারের পক্ষ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

তিনি দুইবার কুলিয়ারচর পৌরসভার মেয়র এবং একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ ২০২২ সালের ২ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জ মাল্টিপারপাস সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান, কুলিয়ারচর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাইস চেয়ারম্যান এবং কুলিয়ারচর কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

রাজনৈতিক সহকর্মীরা বলেন, “নূরুল মিল্লাত ছিলেন একজন সাহসী, সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে তিনি আজীবন মানুষের হৃদয়ে থাকবেন।”

সাধারণ মানুষের ভাষ্যও একই—তিনি ছিলেন এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সইবার তাওফিক দান করেন—এই কামনাই এখন সর্বস্তরের মানুষের।

দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

নিষিদ্ধ সংগঠনের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা দেশবিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

মিছিলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মাহাব্বুর রহমান মাহাবুব, আবু বাক্কার সিদ্দিক বাক্কার, আবুল হাসিম সবুজ, ফরিদ আহম্মেদ, সাদ্দাম হোসেন চাঁন মিয়া, রবিউল আলম রবিন, এ আই খান শিবলু, মোস্তাফিজ রহমান টুটুল, হোসেনপুর পৌর বিএনপি র সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক, সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির এ ধরনের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর জেলি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ কেজি জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভৈরবের পুলতাকান্দা এলাকার নৈশকালীন মৎস্য আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে একটি দল পুলতাকান্দা নৈশকালীন মৎস্য আড়তে অভিযান চালায়।

অভিযানে ডলফিন মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ২৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রির দায়ে আড়ত মালিক ফরহাদ মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে অন্তর ফিস এন্টারপ্রাইজ থেকে জেলি মেশানো ৩৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক অন্তর বর্মণকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ১০ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আড়ত মালিক সেলিম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে ভৈরব উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার হোসেন, ভৈরব নৌপুলিশের উপপরিদর্শক মো. রহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ কেজি ক্ষতিকর জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসব চিংড়ি বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান শেষে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

অষ্টগ্রামে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ, গরিব ও অসহায় এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন ১২৪টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক ও গৃহ নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সায়েদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অষ্টগ্রাম উপজেলার ১২৪টি পরিবারের মধ্যে ২৫টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই বান্ডেল করে ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাকি ৯৯টি পরিবারের প্রত্যেককে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়েছে।