নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সিদ্ধান্ত: ভিপি সোহেল সহ সকলের অভিযোগ প্রত্যাহার
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের বিএনপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ চার রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির শুনানি শেষে অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগ প্রত্যাহার হওয়া চার ব্যক্তি হলেন মো. খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, মো. রেজাউল করিম খান চুন্নু, মো. মাসুদ হিলালী এবং মো. রুহুল হোসাইন।
গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সামা নির্বাচন কমিশনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মশাল মিছিল ও পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বরাতে মো. কাউছার আলম চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ ও ৯ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে ৪ জানুয়ারি ও ৮ জানুয়ারি ধারাবাহিক শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করা হয়। ব্যাখ্যায় বলা হয়, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কেউই দলীয় বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন না। তারা মশাল মিছিলে অংশ নেন সাধারণ নাগরিক হিসেবে, রাজনৈতিক সচেতনতার অংশ হিসেবে। সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মত প্রকাশ নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
লিখিত ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়, আচরণ বিধিমালা শুধুমাত্র ঘোষিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নয়। ২৮ ডিসেম্বর তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর দাখিল করেন। ফলে অভিযোগের সময় তারা কেউই প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়া নির্বাচন আইন বা আচরণ বিধিমালায় “সম্ভাব্য প্রার্থী” নামে কোনো আইনগত সংজ্ঞা নেই বলেও ব্যাখ্যায় তুলে ধরা হয়।
সকল নথি, ব্যাখ্যা ও শুনানি পর্যালোচনার পর নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি অভিযোগের বাস্তব ও আইনগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দেয়।
অভিযোগ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলেছি এটি ছিল নাগরিক অধিকার প্রয়োগের একটি কর্মসূচি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা রাজনীতি করি। আজ সত্যের জয় হয়েছে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array