শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সিদ্ধান্ত: ভিপি সোহেল সহ সকলের অভিযোগ প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সিদ্ধান্ত: ভিপি সোহেল সহ সকলের অভিযোগ প্রত্যাহার

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের বিএনপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ চার রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির শুনানি শেষে অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অভিযোগ প্রত্যাহার হওয়া চার ব্যক্তি হলেন মো. খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, মো. রেজাউল করিম খান চুন্নু, মো. মাসুদ হিলালী এবং মো. রুহুল হোসাইন।

গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সামা নির্বাচন কমিশনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মশাল মিছিল ও পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বরাতে মো. কাউছার আলম চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ ও ৯ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে ৪ জানুয়ারি ও ৮ জানুয়ারি ধারাবাহিক শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করা হয়। ব্যাখ্যায় বলা হয়, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কেউই দলীয় বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন না। তারা মশাল মিছিলে অংশ নেন সাধারণ নাগরিক হিসেবে, রাজনৈতিক সচেতনতার অংশ হিসেবে। সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মত প্রকাশ নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

লিখিত ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়, আচরণ বিধিমালা শুধুমাত্র ঘোষিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নয়। ২৮ ডিসেম্বর তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর দাখিল করেন। ফলে অভিযোগের সময় তারা কেউই প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়া নির্বাচন আইন বা আচরণ বিধিমালায় “সম্ভাব্য প্রার্থী” নামে কোনো আইনগত সংজ্ঞা নেই বলেও ব্যাখ্যায় তুলে ধরা হয়।

সকল নথি, ব্যাখ্যা ও শুনানি পর্যালোচনার পর নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি অভিযোগের বাস্তব ও আইনগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দেয়।

অভিযোগ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলেছি এটি ছিল নাগরিক অধিকার প্রয়োগের একটি কর্মসূচি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা রাজনীতি করি। আজ সত্যের জয় হয়েছে।”

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে।

কুলিয়ারচরে ২ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ২ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ২ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত নারী হলেন মোছা. সুফিয়া খাতুন (৫৩)। তিনি উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের মাতুয়ারকান্দা এলাকার মৃত সুলু মিয়ার মেয়ে এবং মো. আব্দুল মান্নানের স্ত্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে আশীর্বাদ মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে পাকা সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুফিয়া খাতুন পালানোর চেষ্টা করলে নারী কনস্টেবল লিজা আক্তারের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

পুলিশ আরও জানায়, ওই সময় তারা মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিল সংক্রান্ত ডিউটিতে ছিলেন। আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানের তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কুলিয়ারচরকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

মোবাইল ব্যবহারে দেশের ‘নম্বর ওয়ান’ কিশোরগঞ্জ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল ব্যবহারে দেশের ‘নম্বর ওয়ান’ কিশোরগঞ্জ

দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ। জেলাটিতে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপরীতে সর্বনিম্ন ব্যবহারকারী পাওয়া গেছে নড়াইল জেলায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ ২০২৪–২৫’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে।

স্মার্টফোন ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, শেরপুর, ঝালকাঠি, কুড়িগ্রামপঞ্চগড়

পরিবারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা, আর সর্বনিম্ন পঞ্চগড়

ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। শহরে এই হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ—যা বড় বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।

কম্পিউটার ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা এবং সর্বনিম্ন অবস্থানে ঠাকুরগাঁও। সার্বিকভাবে দেশে মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

জরিপে দেখা গেছে, দেশে ইন্টারনেট সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সরকারি চাকরির তথ্য খোঁজার জন্য—প্রায় ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য (প্রায় ৫০ শতাংশ)। অন্যদিকে অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনাকাটায় অংশ নেন মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ।

ডিজিটাল দক্ষতায় ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি-পেস্ট করতে পারেন, যা সর্বাধিক প্রচলিত দক্ষতা। অপরদিকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সচেতনতা দেখালেও ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এখনও ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে রয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মোবাইল ব্যবহারে কিশোরগঞ্জ দেশের শীর্ষে অবস্থান করলেও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অঞ্চলভেদে বড় ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান। বিশেষ করে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারে শহর-গ্রাম এবং জেলা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান এখনও রয়ে গেছে।

কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার বাজরা-তারাকান্দি বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান জাকির।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহ-সভাপতি: মো. সোহেল রানা (বাজরা-তারাকান্দি), মো. শাকিল মিয়া (দারিয়াকান্দি) ও মো. আজিজুর রহমান আপেল (ছয়সূতী)।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. সালাহ উদ্দীন (বাজরা)। প্রচার সম্পাদক: মো. মিলন মিয়া (মনোহরপুর), মো. আল-আমিন মিয়া (আগরপুর) ও মো. শরিফ মিয়া (চর কামালপুর)। সহকারী প্রচার সম্পাদক: মো. রতন মিয়া (তারাকান্দি) ও মো. আহসানুল হাবীব আশিক (পৈলানপুর)। সম্মানিত সদস্য: কুলিয়ারচর উপজেলার সকল বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকবে এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে কুলিয়ারচরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলাররা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।