রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’: আল জাজিরায় হাসিনাপুত্র জয়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’: আল জাজিরায় হাসিনাপুত্র জয়

হাসিনাপুত্র জয়ের সাক্ষাতকার ছবিঃ আলজাজিরা

আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, সে ক্ষেত্রে দলের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে আর দেখা নাও যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন।

সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, ‘আমার মা দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।’

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসভবনে এই সাক্ষাৎকার নেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় রাজনৈতিক দল। আমাদের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ভোট রয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬–৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক।’

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, ‘তার বয়স এখন ৭৮ বছর। এমনিতেই এটি তার শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল। তিনি অবসর নিতে চান।’

এ সময় শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, তাহলে কি একে ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়?
উত্তরে জয় বলেন, ‘সম্ভবত তাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই চলতে পারে। দলটি ৭০ বছরের পুরোনো। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না।

দলের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে বিদেশে আত্মগোপনে আছেন এবং দেশে থাকা অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

আল জাজিরার সাংবাদিক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানির অভিযোগ তুললে জয় বলেন, ‘আমরা সহিংসতা চাই না। কিন্তু যখন কাউকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলা হয়, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শত শত আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ হেফাজতে মারা গেছেন।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের যদি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো সক্ষমতা থাকত, তাহলে এই সরকার টিকে থাকত না।’

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে জয় বলেন, ‘সরকার পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি—এটা সত্য। তবে এসব কিছু শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়নি।’

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, আল জাজিরা ও বিবিসি অডিও ক্লিপের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেনি। তাঁর ভাষায়, ‘নির্দেশ ছিল সশস্ত্র সহিংস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নয়।’

নিহতদের সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারপতনের আগ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০। বাকিদের মৃত্যুর দায় বর্তমান সরকারের সময়ের ঘটনা।

বিচার প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘বিচার সবার জন্য সমান হতে হবে। একতরফা বিচার মানেই বিচার নয়।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার মা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি। তিনি কোনো মৃত্যু চাননি।’

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।