ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় ৩৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ইসি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রদত্ত মোট ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট পেতে হয়। এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন ৩৪ জন প্রার্থী।
তবে ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন প্রার্থী এবং অপর একটি আসনে জামায়াত–এনসিপি সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়া এক বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর জামানতও রক্ষা পেয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর): এ আসনে জামানত হারিয়েছেন এনপিপি প্রার্থী তারেক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আলী, বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী আলাল মিয়া, সিপিবি প্রার্থী মো. এনামুল হক এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী মো. মাসুদ মিয়া।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া): জামানত হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) নূর উদ্দীন আহমেদ, জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী (ময়ূর) আনিসুজ্জামান খোকন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আবুল বাসার রেজওয়ান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল): এ আসনে জামানত হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) একেএম আলমগীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসাইন, গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া, এনপিপি প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম): এখানে জামানত হারিয়েছেন ১১ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খায়রুল ইসলাম ঠাকুর, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ প্রার্থী নুরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) কাজী রেহা কবির, স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া) ডা. শাহীন রেজা চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী বিল্লাল আহমেদ মজুমদার এবং এনপিপি প্রার্থী মো. জয়নাল আবদিন।
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী): জামানত হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (হরিণ) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. অলি উল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর): এ আসনে জামানত হারিয়েছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ প্রার্থী নাঈমুল হাসান, সিপিবি প্রার্থী ডা. মো. হাবিল মিয়া, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আয়ূব হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ মুছা খান, এনপিপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. রুবেল হোসেন এবং গণফোরাম প্রার্থী শাফি উদ্দিন আহাম্মদ।
যাঁদের জামানত রক্ষা পেয়েছেঃ ছয়জন বিজয়ী প্রার্থীর বাইরে যাঁরা জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন তাঁরা হলেন— কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ১১ দলসমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদী এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু; কিশোরগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম; কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. জেহাদ খান; কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী রোকন রেজা শেখ; কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ও জামায়াতের জেলা আমির মো. রমজান আলী; এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আতাউল্লাহ আমীন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।