বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাঙামাটিতে ভোটের পাহাড়, মাদারীপুরে মাত্র ৩৮৫ ভোটে ফয়সালা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রাঙামাটিতে ভোটের পাহাড়, মাদারীপুরে মাত্র ৩৮৫ ভোটে ফয়সালা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দীপেন দেওয়ান।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে রাঙামাটি আসনের মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৯২ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ভোট, যা এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ব্যবধানের রেকর্ড।

সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। রাজবাড়ী-২ আসনে এই বিপুল ব্যবধান নির্বাচনী ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোটের ব্যবধানে জয় এসেছে মাদারীপুর-১ আসনে। সেখানে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নজির তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একদিকে যেমন ভূমিধস জয়ের রেকর্ড তৈরি করেছে, অন্যদিকে তেমনি অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের নাটকীয় চিত্রও তুলে ধরেছে। এসব ফলাফল দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটারদের মতামতের বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতার গভীরতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বুধবার(২২ জুলাই) কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাছরিফুল হাছিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। চিকিৎসার অভাবে যাতে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা সহায়তা ও বিশেষ অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। সেই কষ্ট লাঘব করতেই সরকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।

বক্তারা বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সুফল ইতোমধ্যে লাখো মানুষ পাচ্ছেন। চিকিৎসা সহায়তার এ বিশেষ অনুদান কর্মসূচিও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আটজন অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। উপকারভোগীরা সরকারের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উপকারভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে মাকাল ফল, নতুন প্রজন্মের কাছে এখন অচেনা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে মাকাল ফল, নতুন প্রজন্মের কাছে এখন অচেনা

“গুরুমশায় বলেন তারে- বুদ্ধি যে নেই একেবারে, দ্বিতীয় ভাগ করতে সারা ছয় মাস ধরে নাকাল। রেগেমেগে বলেন, ‘বাঁদর, নাম দিনু তোর মাকাল।’” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিশুতোষ কবিতা ‘মাকাল’-এ এভাবেই ফলটির নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে যে ফলটি একসময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে পরিচিত ছিল, আজ সেটিই নতুন প্রজন্মের কাছে প্রায় অচেনা।

উদ্ভিদবিদদের তথ্যমতে, মাকালের প্রাচীন নাম ছিল ‘মহাকাল’। সময়ের ব্যবধানে নামটি পরিবর্তিত হয়ে ‘মাকাল’ রূপে প্রচলিত হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Trichosanthes tricuspidata

টকটকে লাল রঙের মাকাল ফল দেখতে অনেকটা ছোট আপেলের মতো হলেও এর ভেতরের অংশ তিতা এবং কালচে বর্ণের। কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক স্থানে একে ‘কাওয়াকাঁদি’ নামেও ডাকা হয়। অতীতে এ ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ থেকে তৈরি প্রাকৃতিক বিষ কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে পরিবেশগত পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস এবং রাসায়নিক কীটনাশকের বিস্তারের কারণে মাকাল গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

মাকাল একটি বহুবর্ষজীবী লতাজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত বন-জঙ্গল কিংবা বড় গাছকে আশ্রয় করে এটি ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পাতার কক্ষে সাদা ফুল ফোটে এবং বর্ষা মৌসুমে ফুল ও ফল ধারণ করে। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং গাঢ় সবুজ, পরবর্তীতে হলুদ এবং সম্পূর্ণ পাকলে উজ্জ্বল লাল হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমী মো. নবী হোসেন বলেন, মাকাল শুধু একটি ফল নয়; এটি একটি মূল্যবান ভেষজ উদ্ভিদ। এর শিকড় কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কফ, শ্বাসকষ্ট, নাক ও কানের ক্ষত, জন্ডিস, শরীরে পানি জমা, স্তনের প্রদাহ, প্রস্রাবজনিত সমস্যা, বাতব্যথা, কাশি এবং শিশুদের অ্যাজমাসহ নানা রোগের লোকজ চিকিৎসায় মাকালের বিভিন্ন অংশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তিনি আরও জানান, মাকালের বীজ থেকে প্রাপ্ত তেল সাপ ও বিছার কামড়, আমাশয়, ডায়রিয়া, মৃগীরোগসহ বিভিন্ন সমস্যার লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। একই সঙ্গে সাবান উৎপাদন এবং চুলের পরিচর্যাতেও এ তেলের ব্যবহার রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাকাল ফলের বীজ ও আঁশ শুকিয়ে গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে তৈরি দ্রবণ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর অঞ্চলের কৃষকেরা একসময় ফসলের পোকামাকড় ও ইঁদুর দমনে মাকালের বিষ ব্যবহার করতেন। এটি ফসলের জন্য তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব বলে পরিচিত ছিল।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন বনাঞ্চল ও পরিত্যক্ত স্থানে একসময় মাকাল গাছ প্রচুর দেখা যেত। তবে গত এক যুগে এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, আগের তুলনায় বর্তমানে এর উপস্থিতি প্রায় দশ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ অধ্যাপক এবিএম ছিদ্দিক চঞ্চল বলেন, “অবাধ বন উজাড়, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে মাকাল গাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় কৃষকেরা প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে মাকালের বিষ ব্যবহার করলেও এখন বাজারে এর চাহিদা প্রায় নেই। দেশীয় এ মূল্যবান উদ্ভিদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

পরিবেশবিদদের মতে, দেশীয় বিরল উদ্ভিদ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল বইয়ের পাতাতেই মাকাল ফলের নাম খুঁজে পাবে।

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অটোরিকশাচালক, হত্যা মামলা পরিবারের

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অটোরিকশাচালক, হত্যা মামলা পরিবারের

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে আহত অটোরিকশাচালক রোকন (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার নয় দিন পর মঙ্গলবার(২১ জুলাই) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বুধবার(২২ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ সুরাফ।

নিহত রোকন সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভাবুন্দিয়া কালিকাবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। অভিযুক্ত রাজিব (২১) একই এলাকার সিদ্দিকের ছেলে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভাবুন্দিয়া কালিকাবাড়ী এলাকায় রাজিবের সঙ্গে রোকনের দেখা হয়। পরিবারের দাবি, রাজিবের কাছে রোকনের কিছু টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজিব তার সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে রোকনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাজিব টিপ ছুরি দিয়ে রোকনের পেটের নিচের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রোকনের মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের অভিযোগ, একটি সামান্য পাওনা টাকার বিরোধের জেরে একজন উপার্জনক্ষম মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মোহাম্মদ সুরাফ বলেন, “আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। শুধু নিজের পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তাকে প্রাণ দিতে হলো। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, “নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41