রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২

ফাঁসির সেল থেকে জাতীয় সংসদে: অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফাঁসির সেল থেকে জাতীয় সংসদে: অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘদিন কারাগারের ফাঁসির সেলে কাটানোর পর সেখান থেকে মুক্ত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন তিন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তারা হলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তারা। পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা এসব নেতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর আদালতে আবেদন করে খালাস পান।

লুৎফুজ্জামান বাবরঃ

নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ–মদন–খালিয়াজুরি) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. লুৎফুজ্জামান বাবর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

লুৎফুজ্জামান বাবরের গ্রামের বাড়ি মদন উপজেলার বাড়িবাদেরা এলাকায়। তিনি এর আগে তিনবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৭ বছরের বেশি সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র জব্দের ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ বাবরসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্য একটি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন। পরে সব মামলায় খালাস পাওয়ার পর গত বছরের জানুয়ারিতে কারামুক্ত হন তিনি।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাবর। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুস সালাম পিন্টুঃ

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জেলার আটটি আসনের ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন এবং সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

পিন্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম পিন্টু ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেফতার হন পিন্টু। ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান তিনি।

কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর অনুপস্থিতিতে ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। দলের নেতারা বলছেন, দুই ভাইয়ের দীর্ঘ ত্যাগেরই প্রতিফলন এই নির্বাচনী ফলাফল।

এটিএম আজহারুল ইসলামঃ

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটির ১৩৭টি কেন্দ্রে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট।

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

গত বছরের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় দেন। পরদিন ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাসের নেতৃত্বে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাকুন্দিয়া থানা এবং পৌরসদর বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রোভার স্কাউটের সদস্যরা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাজিতপুরে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাজিতপুরে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমন্বিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় মশা নিধন মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটিয়ে মশা দমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, বাজিতপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. সোহাগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজাহান সিরাজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

“নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়া বাজার ব্রিজসংলগ্ন শাপলা চত্বরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় শহরের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগাম সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে জন্মায় উল্লেখ করে তারা বাসাবাড়ি, ছাদ, বাগান ও আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, প্রতি শনিবার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, এডিস মশা মূলত দিনের বেলাতেই বেশি কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহারসহ ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারও জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাড়ি না ফেরার পরামর্শ দেন তারা।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভা জানায়, এই কর্মসূচির আওতায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।