সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

কটিয়াদীতে বিএনপি নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে বিএনপি নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করতে গিয়েও মামলা করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শফিকুর রহমান বাদল। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দলীয় যেকোনো শাস্তি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের ওপর হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সিরাজী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শাহজাহান সিরাজী বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার তেলিচাড়া এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি গোপন বৈঠক চলছিল। খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পৌর সদরের ভোগপাড়া এলাকার টিটু মিয়া নামের ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শাহজাহান সিরাজীর দাবি, ওই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে সন্দেহ করতে থাকেন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির স্বজনেরা। এরপর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে কটিয়াদী আসার পথে উপজেলার কাহেতেরটেকী এলাকায় পৌঁছালে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নির্দেশে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এমদাদুল হক রাতুল, ছাত্রলীগ নেতা মো. নাছিম, হাবিবুর রহমান সন্দেশ, আল আমিন, শামীমসহ ১০ থেকে ১২ জন ওই হামলায় জড়িত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তিনি আহত হন।

শাহজাহান সিরাজী আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নাম উল্লেখ করে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। বাদলের নাম থাকায় পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে শাহজাহান সিরাজীর এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদল। তিনি বলেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি এ অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

শফিকুর রহমান বাদল বলেন, শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দলের যেকোনো শাস্তি তিনি মেনে নিতে রাজি। আর তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলে কেন তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ এবং মিথ্যা অভিযোগ থেকে তাঁকে দায়মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন এবং সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার। তাঁরা বলেন, শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে দলীয় কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

অন্যদিকে, থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদল ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি আরও বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনসহ জেলা পুলিশ সুপার অবগত আছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে হামলার বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবি উঠেছে, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবিও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ যা-ই থাকুক, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিটি জেলায় ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
প্রতিটি জেলায় ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রবিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু-সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, নগর উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর নগরজীবন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিতকরণ ও সুষম নগর উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “সকল নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান এবং এমন নগর ও বসতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন—যেখানে মানুষ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা, সুস্থ পরিবেশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পায়। বিশ্ব বসতি দিবস আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে সবার জন্য বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা আজ আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।”

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বস্তিবাসী মানুষের দীর্ঘদিনের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

‘সবার জন্য বাসস্থান’কে শুধু একটি ঘরের নিশ্চয়তা হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার সমন্বিত নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই আবাসন ও নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে ভৈরবে সড়ক অবরোধ

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে ভৈরবে সড়ক অবরোধ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ী রোডের মনামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকা ও আইস কোম্পানির মোড়ে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

‘ডেঙ্গু নগরী’ হিসেবে পরিচিত পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। সমাবেশে প্রশাসনের অবহেলা ও মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পৌর শহরের মধ্যে ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যাও ২ নম্বর ওয়ার্ডে বেশি।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম. আজিমুল হক। তিনি অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করান।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুটি বড় ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে একই সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আরিফুল হক সুজন, পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনিস উল্লাহ মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী ইসমাইল, যুবদল সভাপতি জাহিদ মিয়া (জাবেদ), ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ, রাকিব হাসান ও শহীদ মিয়াসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ বলেন, “ভৈরবে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। শহরের প্রতিটি বাড়িতে ডেঙ্গুর রোগী রয়েছে। এদিকে পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে চার থেকে পাঁচজন করে ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। এই ওয়ার্ডের ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। আমরা চেম্বারের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানাবিধ উদ্যোগ নিলেও পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডে দিন দিন ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে ময়লার ভাগাড়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট ছোট ময়লার একাধিক স্তূপের পাশাপাশি দুটি বড় ভাগাড় রয়েছে। এর মধ্যে বাগানবাড়ী রোডের মনামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকা ও ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন রোডের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। সেগুলোর ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না করলে শুধু ডেঙ্গু নয়, ওই ওয়ার্ডের মানুষের মধ্যে নানা রোগব্যাধি ছড়াবে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভৈরব পৌর প্রশাসককে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম. আজিমুল হক বলেন, “ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। আমরাও ভৈরবের বাসিন্দা। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ ভৈরববাসীর সুরক্ষা আমাদেরই দিতে হবে। এই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে স্টেশন এলাকার ময়লার ভাগাড় অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে মনামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকার ময়লার ভাগাড় অপসারণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ময়লা ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণসহ বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সচেতনতামূলক প্রচার নয়—মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন, দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি করছে উপজেলা প্রশাসন।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ড. কিশোর কুমার ধর বলেন, “যতক্ষণ না আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, ততক্ষণ ডেঙ্গু থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আমার পরিবারও ডেঙ্গু আক্রান্ত। কেবল আমি সচেতন হলেই যে ডেঙ্গু হবে না, তা নয়; আমাদের চারপাশের এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে।”

তিনি জানান, ৪ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিনিয়ত কয়েক শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দ্বিগুণ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও প্রতিদিন শতাধিক রোগী সেবা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলা ও আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি

ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থাটি এ তথ্য প্রকাশ করে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৭ বছর। একই সময়ে ভারতে গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গড় আয়ু আরও বেশি। দেশ দুটিতে গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৫ বছর ও ৮১ দশমিক ৪ বছর।

ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বৈশ্বিক গড় আয়ু আবারও আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরেছে।

২০২৩ সালে বিশ্বে গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে ২০২১ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু কমে ৭১ দশমিক ৫ বছরে নেমে এসেছিল।

ডব্লিউএইচওর ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক বলেন, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি একটি বড় অর্জন। তবে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মানুষ যেন শুধু দীর্ঘদিন নয়, সুস্থ শরীরেও দীর্ঘ সময় বাঁচতে পারে।

সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।