তাড়াইলে গ্রেপ্তার মৎস্যজীবী লীগ নেতা আবার ওলামা দলের কমিটিতেও
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শাহ আলম ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে তাড়াইল থানা পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের তাড়াইল উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে। তবে একই ব্যক্তির নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের তাড়াইল উপজেলা শাখার তিনটি কমিটিতেও বিভিন্ন পদে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের হাছলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শাহ আলম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মজিবুর রহমান (মেঘো)-এর ছেলে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া তাড়াইল থানার এসআই ফোরকান আহমেদ জানান, শাহ আলম ভূঁইয়া বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের তাড়াইল উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে শাহ আলম ভূঁইয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। তবে তাকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শাহ আলম ভূঁইয়ার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত বিভিন্ন কমিটির অনুমোদিত কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের তাড়াইল উপজেলা শাখার তিনটি কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে তার নাম রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ওলামা দলের আহ্বায়ক কমিটিতে শাহ আলম ভূঁইয়ার নাম ১৯ নম্বর সদস্য হিসেবে রয়েছে। ২০২২ সালের আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের ২০২১ সালের তাড়াইল উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটিতেও শাহ আলম ভূঁইয়াকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রতিবেদকের কাছে থাকা অনুমোদিত নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের মোট চারটি কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে শাহ আলম ভূঁইয়ার নাম পাওয়া গেছে। দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে একই ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে এসব কমিটিতে শাহ আলম ভূঁইয়ার দায়িত্বের সময়কাল, পরবর্তী সময়ে পদ পরিবর্তন, অব্যাহতি কিংবা সাংগঠনিকভাবে তার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের তাড়াইল উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ রুহুল আমিন বলেন, ধৃত শাহ আলম ওলামা দলের একজন দক্ষ ও নিবেদিত কর্মী। তার দাবি, শাহ আলম ভূঁইয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
তবে শাহ আলম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের কারণ, সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য এই মুহূর্তে দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array