ইটনায় হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ইটনায় হত্যা মামলার আসামিরা দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় নতুন করে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলার আসামিদের হামলায় গুরুতর আহত লুৎফুর রহমান রোকন (৩২) নামে এক যুবক গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের মধ্যে শোক ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত রোকন ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের পাতারকান্দি গ্রামের মকসুদ আলীর ছেলে। তিনি রায়টুটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। তাঁর বড় ভাই খোকন মিয়াও ওই হামলায় গুরুতর আহত হন। তাঁর বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত উজ্জ্বল মিয়ার চাচাতো ভাই রবিউল আউয়াল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় চার মাস আগে গত ৩ জুন রাতে রোকন ও খোকনের ভগ্নিপতি এবং রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়া (৪২) নিহত হন। উজ্জ্বলের ভাগনে মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই গ্রামের রফিক মিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের লোকজন উজ্জ্বলকে হত্যা করে।
মোশাররফের অভিযোগ, উজ্জ্বল হত্যার পর ইটনা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রফিক মিয়া ও তাঁর ভাতিজা শিবেনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পরে ইটনা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ করেন মোশাররফ।
পরিবারের অভিযোগ, উজ্জ্বল হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উজ্জ্বলের স্ত্রী দুই ভাই খোকন মিয়া ও রোকন মিয়া এবং উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই রবিউল আউয়ালের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন।
হামলার পর রোকনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং খোকনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকনের বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। রবিউল আউয়ালকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রোকন মারা যান।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী। রোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁরা আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়ির আশপাশে জড়ো হন। এতে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’ পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁরা সরে যান বলে জানান তিনি। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রোকনের কাফন-দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান মোশাররফ।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, নিহত উজ্জ্বল মিয়ার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাঁর ময়নাতদন্ত করা হলেও প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে উজ্জ্বলের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ছয়টি মামলা রয়েছে। রোকনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পার্শ্ববর্তী বাদলা তদন্ত কেন্দ্র থেকে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
উজ্জ্বল হত্যার বিচার না হওয়া এবং রোকনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array