বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইটনায় হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইটনায় হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ইটনায় হত্যা মামলার আসামিরা দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় নতুন করে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলার আসামিদের হামলায় গুরুতর আহত লুৎফুর রহমান রোকন (৩২) নামে এক যুবক গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের মধ্যে শোক ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহত রোকন ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের পাতারকান্দি গ্রামের মকসুদ আলীর ছেলে। তিনি রায়টুটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। তাঁর বড় ভাই খোকন মিয়াও ওই হামলায় গুরুতর আহত হন। তাঁর বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত উজ্জ্বল মিয়ার চাচাতো ভাই রবিউল আউয়াল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় চার মাস আগে গত ৩ জুন রাতে রোকন ও খোকনের ভগ্নিপতি এবং রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়া (৪২) নিহত হন। উজ্জ্বলের ভাগনে মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই গ্রামের রফিক মিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের লোকজন উজ্জ্বলকে হত্যা করে।

মোশাররফের অভিযোগ, উজ্জ্বল হত্যার পর ইটনা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রফিক মিয়া ও তাঁর ভাতিজা শিবেনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পরে ইটনা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ করেন মোশাররফ।

পরিবারের অভিযোগ, উজ্জ্বল হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উজ্জ্বলের স্ত্রী দুই ভাই খোকন মিয়া ও রোকন মিয়া এবং উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই রবিউল আউয়ালের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন।

হামলার পর রোকনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং খোকনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকনের বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। রবিউল আউয়ালকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রোকন মারা যান।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী। রোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁরা আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়ির আশপাশে জড়ো হন। এতে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’ পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁরা সরে যান বলে জানান তিনি। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রোকনের কাফন-দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান মোশাররফ।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, নিহত উজ্জ্বল মিয়ার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাঁর ময়নাতদন্ত করা হলেও প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে উজ্জ্বলের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

ওসি আরও বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ছয়টি মামলা রয়েছে। রোকনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পার্শ্ববর্তী বাদলা তদন্ত কেন্দ্র থেকে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উজ্জ্বল হত্যার বিচার না হওয়া এবং রোকনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।