শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সাইবার আইন যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন না করে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাইবার আইন যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন না করে: তথ্যমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা হতো। গণমাধ্যমের ওপর আইন অপব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে যেন এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক (ডুয়াল মিনিং) শব্দ না থাকে, যা ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাক্‌স্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাকে বিনষ্ট করছে। সরকারের প্রধান কাজ হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটি বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপরও জোর দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেবল কঠিন আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে কোনো মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার করাও যে অপরাধের আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে কনসালটেশন সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেওয়া অপরিহার্য। এ কারণেই গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে, তা গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।

গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার এই আইন সংশোধন করছে না। প্রিন্ট মিডিয়ার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের কোথায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা রয়েছে, সে বিষয়ে মুক্তমনে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এসব পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

কনসালটেশন সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইনটি যেন অপব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে একটি যুগোপযোগী আইনের বিকল্প নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আইনটি পরিমার্জন করতে হবে, যাতে এর কোনো অপব্যবহার বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

কনসালটেশন সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধন করে বর্তমান সরকার যে সাইবার সুরক্ষা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা এবং জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাদ দেওয়া প্রশংসনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, বাক্‌স্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসভ্যতা, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে নারী, শিশু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইন হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এসব প্রশ্রয় দিলে সামাজিক নোংরামি বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত হবে। তবে আইনের পাশাপাশি সরকারের কোনো সংস্থা যদি নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করে, সে ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বিধান আইনে স্পষ্টভাবে থাকা প্রয়োজন।

মুক্ত আলোচনায় ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ কনসালটেশন সভা আরও পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আয়োজনের তাগিদ দেন। তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনের প্রয়োগ ও সাজা বাড়ানোর চেয়ে অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া কনসালটেশন সভায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব জোবায়ের বাবু, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম. এ. আজিজ, দৈনিক আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদক ও শিক্ষাবিদেরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।

হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল ভিমরুলের চাক, আতঙ্কে সেবাপ্রার্থীরা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল ভিমরুলের চাক, আতঙ্কে সেবাপ্রার্থীরা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি আমগাছের ডালে বিশাল আকারের ভিমরুলের (স্থানীয় ভাষায় ভেংগুল) চাক বাসা বেঁধেছে। এতে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের মূল মাঠের পাশে থাকা একটি বড় আমগাছের ডালে ফুটবলের আকৃতির বিশাল ভিমরুলের চাক ঝুলছে। গাছটির নিচ দিয়েই প্রতিদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আদালতে যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ। এ পথে কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে চাকটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, ভিমরুল অত্যন্ত বিষাক্ত ও আক্রমণাত্মক। সামান্য শব্দ বা ঢিল ছোড়া হলে এগুলো দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করতে পারে। ভিমরুলের কামড়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানান তারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা কয়েকজন বলেন, “আমরা খুব ভয়ে ভয়ে এই গাছের নিচ দিয়ে যাতায়াত করি। বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি, কখন কামড়ে দেয়—সেই ভয়ে আছি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এটি অপসারণ করা।”

এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভিমরুলের চাকটি নিরাপদে অপসারণ অথবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষ ভিমরুলের আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতরভাবে আহত বা অসুস্থ হতে পারেন।

জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

করিমগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মো. হেলিম (৩৫) নামে এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় খোকন (৩০) নামে আরও এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গুজাদিয়া নামাপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে জমিতে কাজ করার সময় হেলিম বজ্রপাতে আক্রান্ত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত হেলিম গুজাদিয়া নামাপাড়া গ্রামের মো. মুসলিমের ছেলে।

গুজাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আরজু মিয়া জানান, সকাল ৬টা থেকে নিহত হেলিমসহ আটজন শ্রমিক স্থানীয় বৈরাটিয়া পাড়া গ্রামের কৃষক আল ইসলামের জমিতে ধনেপাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই হেলিমের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে খোকন (৩০) নামে আরেক শ্রমিক আহত হন। তাঁকে করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি শ্রমিক মো. হেলিম অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই সন্তানের জীবনযাপন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানান ইউপি সদস্য আরজু মিয়া। এ অবস্থায় তিনি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবারের জন্য মানবিক সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান দৈনিক কিশোরগঞ্জকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে মুসলিমা বজ্রপাতে নিহত কৃষি শ্রমিক মো. হেলিমের পরিবারকে সরকারি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

বই-ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
বই-ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি

‘শিক্ষা একটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুদের জন্য পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি (GHS)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ পাঠদান কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা অংশ নেয়।

কার্যক্রমে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, বর্ণমালা ও বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে পাঠদান করা হয়। শুধু পড়াশোনার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটানো, তাদের কথা শোনা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতেও কাজ করেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

আয়োজকদের মতে, একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু একটি বই দেওয়া নয়; বরং তার স্বপ্ন দেখার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করা। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কিংবা পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়- এই লক্ষ্যেই GHS-এর এ উদ্যোগ।

গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক মো. আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ তার পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রতিটি শিশুরই শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমাদের এই উদ্যোগ হয়তো ছোট পরিসরে শুরু হয়েছে, কিন্তু আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আমরা চাই কিশোরগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়াতে এবং তাদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত করতে। আজ যে শিশুটি এখানে বই হাতে বসেছে, আগামী দিনে সে-ই হয়তো সমাজ ও দেশের জন্য বড় কিছু করবে। আমরা শুধু তাদের পড়াতে চাই না, আমরা তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটির কাজ কোনো একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে আমরা এই পাঠদান কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই।’

GHS-এর সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম নাদিম বলেন, ‘এই শিশুদের অনেকেরই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা নেই। আমরা চাই তাদের সেই সুযোগটা তৈরি করে দিতে। একটি শিশুকে শুধু বই দেওয়া নয়, নিয়মিত তার পাশে থাকা এবং শেখার পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের সামর্থ্য হয়তো সমান নয়, কিন্তু একটি শিশুর জন্য একটু সময়, একটি বই কিংবা সামান্য সহযোগিতাও তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা সমাজের সবাইকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।’

পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এক শিশু আনন্দ প্রকাশ করে বলে, ‘আজকে আমাদের বই নিয়ে পড়ানো হয়েছে। এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। আমরা নিয়মিত পড়তে চাই এবং বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে চাই।’

আরেক শিশু বলে, ‘আগে এভাবে একসঙ্গে বসে পড়ার সুযোগ হতো না। আপু-ভাইয়ারা আমাদের খুব সুন্দর করে পড়িয়েছেন। আমরা আবারও এখানে পড়তে চাই।’

গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি জানিয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। পর্যায়ক্রমে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির প্রত্যাশা, সমাজের সচেতন মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে কিশোরগঞ্জের আরও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

GHS-এর বার্তা—‘শিক্ষা হোক সবার অধিকার, কোনো শিশু থাকুক না শিক্ষার বাইরে।’

আয়োজনে ছিল গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি (GHS)। সংগঠনটির স্লোগান—‘সবুজ পৃথিবী, মানবতার জন্য’।