শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তাড়াইলে সবজির বাজারে আগুন, দিশাহারা সাধারণ মানুষ

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলে সবজির বাজারে আগুন, দিশাহারা সাধারণ মানুষ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির বাজারে চড়া দাম বিরাজ করছে। উপজেলার সদর কাঁচাবাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম, কেজি ১৮০ টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দামের সবজি পেঁপে, যা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩০ টাকা দরে। এছাড়া অধিকাংশ সবজি কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৭০ টাকা বা তার বেশি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) তাড়াইল সদর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক কম দামে শসা পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে।

সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচের দাম সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে।

বাজারে লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা কেজি। এছাড়া লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তাড়াইল বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, “৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এসেছিলাম, ব্যাগের তলাও ভরেনি। যে সবজিতে হাত দিই, দাম ৮০ টাকার ওপরে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে গেছে।”

আরেক ক্রেতা রিনা বেগম বলেন, “আগে ২০০ টাকায় যে সবজি কিনতাম, এখন তা ৪০০ টাকায়ও হয় না। ছেলে-মেয়েদের কী খাওয়াবো, বুঝতে পারছি না।”

বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের পাইকারি আড়ত থেকে তাদের বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সবজির বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত বাজার মনিটরিং করে অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ ক্রেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

বিন্নাটীতে কাবাডির জমজমাট আসর, বুড়িরচরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
বিন্নাটীতে কাবাডির জমজমাট আসর, বুড়িরচরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করার প্রত্যয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিন্নাটী আব্দুল মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় বুড়িরচর একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিন্নাটী একাদশ।

খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। দুই দলের খেলোয়াড়দের কৌশল, ক্ষিপ্রতা, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিপক্ষকে ছোঁয়ার প্রচেষ্টায় পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। প্রতিটি আক্রমণ ও প্রতিরোধের মুহূর্তে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল। বক্তব্যে তিনি পড়াশোনা ও খেলাধুলার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত বিন্নাটী ও মাদকমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “পড়াশোনা ও খেলাধুলার মধ্য দিয়েই সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে হবে।” মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। মাদক নির্মূলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী একাদশের জন্য পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় একটি খাসি। রানার্সআপ বুড়িরচর একাদশ পায় সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি মোবাইল ফোন। খেলা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও পরাজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আয়োজকদের এ উদ্যোগ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা। হাডুডু নামেও পরিচিত এ খেলাটি একসময় গ্রামীণ মানুষের বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম ছিল। দুই দলের সাতজন করে খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে আয়তাকার মাঠে অনুষ্ঠিত এ খেলায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছুঁয়ে নিজের কোর্টে ফিরে আসতে প্রয়োজন হয় দম ধরে রাখার ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা, কৌশল ও সাহসিকতার।

নগরায়ণ, খেলার মাঠের সংকট এবং আধুনিক বিনোদনের বিস্তারের কারণে অনেক এলাকায় ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটির চর্চা আগের তুলনায় কমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিন্নাটীতে কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চারের পাশাপাশি তরুণদের মাঠমুখী করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।

আয়োজনটির স্লোগান ছিল- “মাদক ছেড়ে মাঠে চল, সুন্দর জীবন গড়ে তোল।” স্লোগানটির মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনচর্চায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার বার্তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বল।

এ ছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক শেখ সবুর খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন গন্ধীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিপুল লোকসমাগম, দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী কাবাডির চর্চা বাড়বে, তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলায় আগ্রহী হবে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা আরও জোরদার হবে।

মিঠামইনে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
মিঠামইনে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বিরোধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলোচনা শুরুর আগেই দুই পক্ষের লোকজন দা, বল্লম ও টেটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমামনগর গ্রামের হাওরে মাছ ধরা এবং রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য হান্নান মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল লতিফের স্বজন ও অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল।

দীর্ঘদিনের এ বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সালিশে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দা, বল্লম ও টেটা নিয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

রাড্ডা কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ, রাজনৈতিক জবাবদিহির নতুন বার্তা

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
রাড্ডা কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ, রাজনৈতিক জবাবদিহির নতুন বার্তা

রাজনীতিতে জবাবদিহির প্রশ্নটি নতুন নয়। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট দল ও রাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত সেই জবাবদিহির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। সাম্প্রতিক রাড্ডা কাণ্ডে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং পরবর্তীতে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার ঘটনা সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ১ অক্টোবর মিষ্টি পদত্যাগ করেন এবং সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ- এ কথাটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলীয় ব্যবস্থা ও আইনি ব্যবস্থা দুটি পৃথক বিষয়।
এখানেই প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপটি রাজনৈতিক জবাবদিহির একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দায়ের প্রশ্নে দলীয় পর্যায়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে আইনের বিচারে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলবে। ফলে দলীয় শাস্তি এবং রাষ্ট্রীয় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যটিও পরিষ্কার হয়ে যায়।
তবে একই সঙ্গে সামনে আসে আরেকটি প্রশ্ন- জবাবদিহির এই মানদণ্ড কি সব রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে?
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করে। দলীয়ভাবে বহিষ্কারের পরও তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়-সংবিধানে এমন সরাসরি বিধান নেই। ফলে দলীয় বহিষ্কার এবং সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয় দুটি একই আইনি প্রক্রিয়া নয়।
এখানেই রাড্ডা কাণ্ডের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়টির একটি দৃশ্যমান বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। একদিকে অভিযোগের পর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, অন্যদিকে দলীয় বহিষ্কারের পরও আরেকজন সংসদ সদস্য আইনগত কাঠামোর কারণে তাঁর পদে বহাল রয়েছেন। এই দুই ঘটনার আইনগত প্রেক্ষাপট এক নয়- এটি যেমন সত্য, তেমনি রাজনৈতিক জবাবদিহির মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক।
জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। ফলে এখানে শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করার চেয়ে বৃহত্তর যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো- দলীয় শাস্তি, নৈতিক দায় এবং সাংবিধানিকভাবে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় কোথায় এবং কীভাবে হবে।
রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত একই ধরনের পরিস্থিতিতে একই ধরনের নীতি ও আইনি কাঠামোর প্রয়োগ। কোনো জনপ্রতিনিধি কোন দলের, কোন পদে আছেন কিংবা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কী- তার ভিত্তিতে জবাবদিহির মাত্রা ভিন্ন হলে জনগণের আস্থার প্রশ্নটি সামনে আসবেই।
রাড্ডা কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ তাই শুধু একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর রাজনৈতিক তাৎপর্যটি ধরা পড়ে না। বরং এটি দলীয় জবাবদিহি, রাজনৈতিক দায় এবং আইনের শাসনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার বিষয়টি দেখিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক বিধানের মধ্যে পার্থক্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কোনো ক্ষেত্রেই অভিযোগকে অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্ত, প্রমাণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তই একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায় নির্ধারণের ভিত্তি। রাজনৈতিক দলীয় সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই দুই প্রক্রিয়াকে আলাদা রেখেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রত্যাশা খুব সরল- ক্ষমতার পরিচয় যেন আইনের প্রয়োগে বাধা না হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত যেমন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে, তেমনি আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। রাড্ডা কাণ্ডে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তার স্থায়ী উত্তর তখনই মিলবে, যখন একই নীতি, একই আইনি কাঠামো এবং একই জবাবদিহির মানদণ্ড রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।