বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিন্নাটীতে কাবাডির জমজমাট আসর, বুড়িরচরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিন্নাটীতে কাবাডির জমজমাট আসর, বুড়িরচরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করার প্রত্যয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিন্নাটী আব্দুল মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় বুড়িরচর একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিন্নাটী একাদশ।

খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। দুই দলের খেলোয়াড়দের কৌশল, ক্ষিপ্রতা, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিপক্ষকে ছোঁয়ার প্রচেষ্টায় পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। প্রতিটি আক্রমণ ও প্রতিরোধের মুহূর্তে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল। বক্তব্যে তিনি পড়াশোনা ও খেলাধুলার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত বিন্নাটী ও মাদকমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “পড়াশোনা ও খেলাধুলার মধ্য দিয়েই সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে হবে।” মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। মাদক নির্মূলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী একাদশের জন্য পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় একটি খাসি। রানার্সআপ বুড়িরচর একাদশ পায় সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি মোবাইল ফোন। খেলা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও পরাজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আয়োজকদের এ উদ্যোগ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা। হাডুডু নামেও পরিচিত এ খেলাটি একসময় গ্রামীণ মানুষের বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম ছিল। দুই দলের সাতজন করে খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে আয়তাকার মাঠে অনুষ্ঠিত এ খেলায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছুঁয়ে নিজের কোর্টে ফিরে আসতে প্রয়োজন হয় দম ধরে রাখার ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা, কৌশল ও সাহসিকতার।

নগরায়ণ, খেলার মাঠের সংকট এবং আধুনিক বিনোদনের বিস্তারের কারণে অনেক এলাকায় ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটির চর্চা আগের তুলনায় কমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিন্নাটীতে কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চারের পাশাপাশি তরুণদের মাঠমুখী করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।

আয়োজনটির স্লোগান ছিল- “মাদক ছেড়ে মাঠে চল, সুন্দর জীবন গড়ে তোল।” স্লোগানটির মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনচর্চায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার বার্তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বল।

এ ছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক শেখ সবুর খান ও বিন্নাটি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব রায়হান গন্ধীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিপুল লোকসমাগম, দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী কাবাডির চর্চা বাড়বে, তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলায় আগ্রহী হবে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা আরও জোরদার হবে।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।