কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চালান
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ বহরটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম।
ইউরেনিয়াম পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনটি বিশেষ লরিতে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চালানটি রূপপুরে নেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে অবতরণের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে জ্বালানি সড়কপথে রূপপুরে পাঠানো হয়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত একাধিক চালানে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম চালানটি দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো উড়োজাহাজটির পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে তা আনা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় চালানটি বাংলাদেশে আনা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রথম চালানের জ্বালানি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসে। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়।
এদিকে প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য একাধিক ফ্লাইটে আরও জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ভিভিইআর-১২০০ ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। প্রকল্পটির ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array