বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে সড়কে ব্যারিকেড, চালককে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে সড়কে ব্যারিকেড, চালককে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই

ছবিতে পুলিশের সাথে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক ও আহত রিমন মিয়া।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে পৃথক দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে এক মোটরসাইকেলচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক যুবককে রক্তাক্ত করে নগদ টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইসরাতুল জান্নাত কওমি মহিলা মাদ্রাসার কাছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক যুবক মোটরসাইকেলে ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে মাদ্রাসাসংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের একটি দল সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁর গতিরোধ করে।

চালক মোটরসাইকেলটি থামানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

খবর পেয়ে সড়কে টহলরত কুলিয়ারচর থানার এসআই মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই চালককে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে তুলে বাড়ির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাঁর বাড়ি শেরপুরে এবং তিনি ভৈরবে একটি ব্র্যাক সমিতির কার্যালয়ে চাকরি করেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর-রাজগোপাট সড়কে। স্থানীয় উত্তর লক্ষ্মীপুর নজের বাড়ি গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে রিমন মিয়া (২৫) ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে তাঁর নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় নির্জন সড়কে একটি সশস্ত্র ছিনতাইকারী দল তাঁর গতিরোধ করে।

ছিনতাইকারীরা রিমনের চোখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাঁর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা রিমনকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও, আগরপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় ধারাবাহিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। একই সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ছোট যানবাহনে ব্যারিকেড দিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ অবস্থায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে রাতে চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ দুটি ঘটনার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।