শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে সড়কে ব্যারিকেড, চালককে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে সড়কে ব্যারিকেড, চালককে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই

ছবিতে পুলিশের সাথে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক ও আহত রিমন মিয়া।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে পৃথক দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে এক মোটরসাইকেলচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক যুবককে রক্তাক্ত করে নগদ টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইসরাতুল জান্নাত কওমি মহিলা মাদ্রাসার কাছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক যুবক মোটরসাইকেলে ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে মাদ্রাসাসংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের একটি দল সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁর গতিরোধ করে।

চালক মোটরসাইকেলটি থামানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

খবর পেয়ে সড়কে টহলরত কুলিয়ারচর থানার এসআই মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই চালককে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে তুলে বাড়ির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাঁর বাড়ি শেরপুরে এবং তিনি ভৈরবে একটি ব্র্যাক সমিতির কার্যালয়ে চাকরি করেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর-রাজগোপাট সড়কে। স্থানীয় উত্তর লক্ষ্মীপুর নজের বাড়ি গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে রিমন মিয়া (২৫) ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে তাঁর নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় নির্জন সড়কে একটি সশস্ত্র ছিনতাইকারী দল তাঁর গতিরোধ করে।

ছিনতাইকারীরা রিমনের চোখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাঁর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা রিমনকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও, আগরপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় ধারাবাহিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। একই সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ছোট যানবাহনে ব্যারিকেড দিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ অবস্থায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে রাতে চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ দুটি ঘটনার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভৈরবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা পরিষদ প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ভৈরবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা পরিষদ প্রশাসক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২২টি বসতঘর পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। শনিবার তিনি ভৈরবের জিয়ানগর এলাকার পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি দ্রুত পুনঃর্নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রাস্তার কাজ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, “আমাদের বাচ্চারা বড় হচ্ছে, আমাদের রাস্তাও বড় করতে হবে। তা আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। যাতে প্রয়োজনের সময়, বিপদের সময় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে পারে। তাহলে আমরা প্রয়োজনের সময় দ্রুত সাহায্য পাব।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভৈরব পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চণ্ডিবের জিয়ানগর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ২২টি বসতঘর পুড়ে যায়। ঘরগুলোতে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন। এতে কয়েকটি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চণ্ডিবের এলাকার একটি সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে শর্টসার্কিট হওয়ার পর কালাম মিয়ার বাড়ির একটি বসতঘরের ফ্রিজে আগুন ধরে যায়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। চণ্ডিবের ঘুড়ি মার্কা ভবনের পাশের সরু গলিতে একের পর এক বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা দেখে ভৈরব নদী ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার স্টেশন থেকে আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আনা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের মোট চারটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ময়মনসিংহ-১২ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আজিজুল হক রাজন বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের সরু রাস্তা ও পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ জানতে কাজ চলছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

অগ্নিকাণ্ডে কালাম মিয়া, মতি মিয়া, আহমেদ মিয়া, মহব্বত মিয়া, ফজলু ও আয়েত আলীসহ কয়েকটি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।

প্রতিবেশী হেলেনা বেগম ও তাকমিনা বেগম বলেন, চোখের সামনে স্বজনদের ঘর পুড়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা। পাকা ঘর থাকায় কোনোভাবে প্রাণে বেঁচেছেন বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, মাগরিবের নামাজ শেষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন দেখতে পান। তাঁর ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। কেউ আইসক্রিম বিক্রি, কেউ চায়ের দোকানে চাকরি এবং কেউ রিকশা-অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ভিপি সোহেলের পরিদর্শনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের এলাকার রাস্তা প্রশস্ত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়, যাতে ভবিষ্যতে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান অগ্নিকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করেছেন।

এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

ভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
ভৈরবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা

২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক লিখিত রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চারটি গ্রুপে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় ভৈরব পৌর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ভৈরব শাখা। মাসব্যাপী জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, পথচারীদের দায়িত্ব এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে লিখিত রচনা লেখেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর। তিনি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভৈরব পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও নিসচার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান, ভৈরব প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তাফিজ আমিন, নিসচা ভৈরব শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলাল উদ্দিন এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি আজহারুল ইসলাম রিদম।

এ ছাড়া মাসব্যাপী জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সুজন, সদস্যসচিব রাকিব হোসাইন, সহসাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইমরান হোসাইন ও সাবিনা ইয়াসমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম জনি, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা রহমান সুধাসহ কার্যকরী সদস্য ফরহাদ আহমেদ, শফিকুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, তাসলিমা খাতুন লিছা, মহুয়া আক্তার, ফারিয়া ইসলাম, ফারজানা সাদেহা ও রঞ্জিতা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা গেলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

নিসচা ভৈরব শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য মো. আলাল উদ্দিন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের বার্তা পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

রচনা প্রতিযোগিতা শেষে বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকটি ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় অতিথি, নিসচা এবং জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ভৈরবে আরও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

আধুনিক সাংবাদিকতায় ৩৫ সাংবাদিককে মাল্টিমিডিয়া ও এআই প্রশিক্ষণ

আমিনুল ইসলাম কায়েস প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
আধুনিক সাংবাদিকতায় ৩৫ সাংবাদিককে মাল্টিমিডিয়া ও এআই প্রশিক্ষণ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন ও নান্দাইল উপজেলার ৩৫ সাংবাদিকের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী মাল্টিমিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরীর কাছে দাবি জানান কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই সেলিমসহ প্রেসক্লাবের সম্পাদকবৃন্দ ও সম্মানিত সদস্যরা এ দাবি জানান।

সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশকে (পিআইবি) কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, নেত্রকোনা সদর ও নান্দাইল উপজেলার সাংবাদিকদের জন্য তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়ায় সংবাদ সংগ্রহ, উপস্থাপন ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে সাংবাদিকদের আরও দক্ষ করে তুলতে তিন দিনব্যাপী মাল্টিমিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণ শুরু করে পিআইবি। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী। এতে কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, নেত্রকোনা সদর ও নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৩৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে সংবাদ তৈরিতে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার, মোবাইল সাংবাদিকতা, ছবি ও ভিডিও ধারণ, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং অনলাইনে তথ্য ও গুজব যাচাইয়ের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা ও আলোচনা করা হয়।

পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য যাচাই, নির্ভুলতা ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণটি গত ২ অক্টোবর শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকতার ধরনও বদলে যাচ্ছে। এখন শুধু লিখিত সংবাদ তৈরির দক্ষতা যথেষ্ট নয়; একজন সাংবাদিককে একই সঙ্গে ছবি, ভিডিও, অডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে এআইনির্ভর বিভিন্ন টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করাও জরুরি।

তাঁরা বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার সাংবাদিকতার কাজকে দ্রুত ও সহজ করলেও তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সাংবাদিকেরই। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য ও গুজব যাচাই ছাড়া প্রকাশ করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পেশাগত নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি।

তিন দিনের এ প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আরও নির্ভুল, দ্রুত ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন পিআইবির মহাপরিচালক।