ভৈরবে দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দোকানপাটসহ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে পৌর শহরের কমলপুর লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙচুরের ঘটনা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। তবে যেকোনো ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কাম্য নয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াইও চলছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে একদল লোক সেখানে গিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। জমির মালিকের নিজস্ব কোনো দোকান না থাকলেও সেখানে ভাড়াটিয়াদের দোকানপাট ও বাড়িঘর রয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও হাবীব এন্টারপ্রাইজের মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জমির মালিক রুবেল মিয়ার কাছ থেকে আমি দোকান ভাড়া নিয়েছি। শনিবার ৩ অক্টোবর দুপুরে একদল লোক আমার প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। তারা আমার নগদ ১৮ লাখ টাকা ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে।’
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ‘মুর্শিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি এই জমিটি নিজের বলে দাবি করেন। তিনিসহ কনক মিয়া ও আরও বেশ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’
জমির মালিক দাবিদার রুবেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘জমি নিয়ে মুর্শিদ মিয়ার সঙ্গে আমার বিরোধ চলছে। আমি নানাবাড়ির সম্পত্তি পেয়েছি এবং জমির কাগজপত্র আমাদের নামেই রয়েছে। শনিবার দুপুরে মুর্শিদ মিয়া ও কনক মিয়া দলবল নিয়ে এসে জমি দখলের চেষ্টা করেন। তাঁরা দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে চলে যান।’
তবে রুবেল মিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মুর্শিদ মিয়া বলেন, ‘আমি জমিটির ক্রয়সূত্রে মালিক। দুই বছর আগেও আমি দোকানপাটের ভাড়া তুলেছি। আদালতের ভুয়া রায় এনে রুবেল মিয়া একদল লোককে প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়েছেন। আমি জমিটি কনক মিয়া নামের একজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।’
অভিযুক্ত কনক মিয়াও জমিটির মালিকানা দাবি করে বলেন, ‘আমি জমিটি মুর্শিদ মিয়ার কাছ থেকে কিনেছি এবং কাগজপত্রও সঠিক রয়েছে। এখন জমি দখল করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় মালিকপক্ষের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা হয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array