সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকায় টিআরএম ছাড়া জলাবদ্ধতা মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকায় টিআরএম ছাড়া জলাবদ্ধতা মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকায় কমিউনিটি ভিত্তিক জোয়ারাধার (টিআরএম) বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। বক্তারা বলেছেন, টিআরএম ছাড়া সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা মুক্তির সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মোবারকপুরে উত্তরণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় “কমিউনিটি ভিত্তিক টিআরএম পরিকল্পনা” শীর্ষক এক আলোচনা সভা।
জোয়ার বদলাচ্ছে: দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের জোয়ারনদীগুলোর প্রতিবেশভিত্তিক অভিযোজন প্রসারে জনগণের পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ এই সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরণের পরিচালক শহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ্। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহিদ আমিন শ্বাশ্বত।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, তালা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ শফিকুল ইসলাম এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর পানি সম্পদ প্রকৌশলী এটিএম সামসুল আলম।

উন্মুক্ত আলোচনা অংশ নেন শোভনালি ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, বল্লী ইউপি চেয়ারম্যান মহিতুর রহমান,  পাখি মারা টি আর এম বিল কমিটির সহ সভাপতি গোলদার আশরাফুল হক, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।

সভায় মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে সিইজিআইএস-এর প্রকৌশলী সিয়াম আলম এবং পরামর্শক ড. মাহমুদা মোতাহারা বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার বর্তমান অবস্থা, সীমানা নির্ধারণ এবং টিআরএম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভাব্য সুফল ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, টিআরএম বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব। এতে জলসম্পদের উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য আহরণ বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শুধুমাত্র কৈখালী ও তেঁতুলিয়া বিল থেকেই প্রায় ৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সম্ভব।

তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেতনা নদী খনন করা হলেও টিআরএম বাস্তবায়ন না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীটি আবার পলি জমে ভরাট হয়ে যাবে। জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে নদীর পলি নিচু বিলাঞ্চলে সরিয়ে নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং জমির উর্বরতা বৃদ্ধি—এই দুই লক্ষ্যই টিআরএম পদ্ধতির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

বক্তাদের মতে, সরকারের ডেল্টা প্ল্যান–২১০০ এও জোয়ার-ভাটার নদী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে টিআরএম বাস্তবায়নের সুপারিশ রয়েছে। তাই শুধু খনন বা অবকাঠামো নির্মাণ নয়, টিআরএম-ই সাতক্ষীরার মতো জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র টেকসই উপায়।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।