বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে যুবদল নেতা মামুনের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা নিরব কারাগারে

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে যুবদল নেতা মামুনের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা নিরব কারাগারে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মামুন ভূইয়া (৩৫) নামে এক যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিরব নামে এক ছাত্রদল নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর আসামি আজিমকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করতে গেলে আদালত এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো নিরব কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বলে জানা গেছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর কুলিয়ারচর থানায় দায়ের করা ৫ নম্বর মামলায় নিরবকে ৩ নম্বর এবং আজিমকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মামুন ভূইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। মামুন ভূইয়া ছয়সূতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি উত্তর কান্দিগ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে।

মামুন ভূইয়ার অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জেরে ঘটনার দিন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাতে বৃষ্টির মধ্যে বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি চায়ের দোকানের পাশে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়।

মামুনের অভিযোগ, দক্ষিণ কান্দিগ্রামের জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন তাঁকে ঘিরে ধরেন। জাহাঙ্গীর ওই এলাকার মাদক কারবারি হিসেবে অভিযুক্ত ফরিদের ছেলে। এ সময় জাহাঙ্গীরসহ একই এলাকার অহিদের ছেলে অন্তর, নিখিল মিয়ার ছেলে নিরব এবং আক্কাস মিয়ার ছেলে আজিম তাঁর ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে সুইস গিয়ার দিয়ে তাঁর গালে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন মামুন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভাগলপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিরবকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

ইঞ্জিন বিকল হয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রয়েছে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ট্রেনটির যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। পাশাপাশি ট্রেনটির শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টায় ট্রেনটির ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ট্রেনটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

স্টেশন মাস্টার আরও জানান, আখাউড়া থেকে একটি সচল ইঞ্জিন কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইঞ্জিনটি স্টেশনে পৌঁছালে সেটি সংযুক্ত করে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করা হবে।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়তে না পারায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামত বা বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করতে দেরি হলে ট্রেনটির পরবর্তী যাত্রাসূচিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করিমগঞ্জে সেচ পাম্পের বিরোধে প্রাণ গেল ১ জনের, আহত ১৭

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে সেচ পাম্পের বিরোধে প্রাণ গেল ১ জনের, আহত ১৭

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হারেছ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চারিতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হারেছ মিয়ার ভাই মো. হারুন মিয়া বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টন নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২ অক্টোবর নিয়ামতপুর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সেচ পাম্পের খরচ ও লভ্যাংশ বাদীপক্ষ ছয় আনা এবং অভিযুক্তপক্ষ ১০ আনা হারে ভাগ করে নেবে। তবে এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে অভিযুক্তরা সেচ পাম্পটি এককভাবে দখলে নেন। এর প্রতিবাদ করলে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে অভিযুক্তরা রামদা, বল্লম, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চারিতলা গ্রামের সৈয়দ উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলা চালান। এ সময় সৈয়দ উদ্দিনকে ধাওয়া করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে ঘরে আশ্রয় নেন। তাঁর চিৎকার শুনে হারেছ মিয়া এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হন।

অভিযোগে বলা হয়, মামলার ৩ নম্বর আসামি কাছম আলী লোহার রড দিয়ে হারেছ মিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি তাঁকে চেপে ধরেন এবং ১ ও ২ নম্বর আসামি লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর বুকে পা দিয়ে চাপ দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় হারেছ মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও অন্তত ১৭ জন হামলার শিকার হন। তাঁদের রামদা, বল্লম ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মো. আবুল খায়ের, মো. এনায়েত হোসেন, মো. আসাদ উল্লাহ, মো. শহীদ, মো. লিমন, মুনতাজ, মো. উজ্জ্বল, মো. শিবলু, বেদেনা আক্তার, মো. আকরাম হোসাইন ও হোসনা আক্তারসহ আরও অনেকে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা সৈয়দ উদ্দিন, নাজমুল ও আবুল খায়েরের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। এ ছাড়া মোনতাজের বাড়িতে ভাঙচুর করে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এ সময় এক নারীর গলা থেকে আড়াই ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতাল ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হারেছ মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ অক্টোবর রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা-পুলিশ হারেছ মিয়ার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

 

কুমিল্লায় কর্ণফুলী কমিউটার লাইনচ্যুত, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় কর্ণফুলী কমিউটার লাইনচ্যুত, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুমিল্লার লাকসামে নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর। তিনি জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কাজ শুরু হবে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।