নাটোরের দুর্ঘটনায় সুপারভাইজার চালাচ্ছিলেন বাস, ঘুমাচ্ছিলেন চালক
নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের সংঘর্ষের সময় আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন এর সুপারভাইজার সোহেল রানা। এ সময় বাসটির চালক ও সহকারী পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা তিন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
নিহত সোহেল রানার বয়স ৩৮ বছর। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামে। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহেল রানা আগে বাস চালাতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
গতকাল মঙ্গলবার(২০ অক্টোবার) ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জন নিহত ও অন্তত ৩২ জন আহত হন।
বাসের যাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রমজান আলী (২৮) দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতাল ছাড়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমি বাসের চালকের সিটের দুই সিট পেছনে বসে ছিলাম। বাসটি রাত আনুমানিক তিনটার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছালে চালকের আসন থেকে চালক উঠে যান এবং সুপারভাইজার বাস চালাতে শুরু করেন। বাসের দরজা বন্ধ করে চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের সিটে ঘুমাতে যান। এর ঘণ্টা খানেক পর বাসটি বনপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।’
ওই বাসের আরও দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালাম আহত হয়ে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার। চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের আসনে ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বরগুনা জেলা শহর থেকে ছেড়ে আসে। ঈশ্বরদীতে কিছু সময় বিরতির পর আবার যাত্রা শুরু করলে চালকের আসনে বসেন সুপারভাইজার। এর কিছু সময় পর দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসটি চালানোর বিষয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সকালে নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রাথমিকভাবে ১৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে রাতে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, সকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হলেও সন্ধ্যা নাগাদ নিহতের সংখ্যা ১২ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সবার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ দুপুরে সোহেল রানার মরদেহ ফরাদপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজনও তাঁদের বাড়িতে ভিড় করেন।
সোহেল রানার স্ত্রী ডলি বেগম জানান, তাঁর স্বামী আগে বাস চালাতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন।










Disqus comments are not configured yet.